ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের সাবেক বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট প্রতিমন্ত্রী গণপূর্তের শরিফ আহমেদের আস্থাভাজন রাশেদ আহমেদ এখন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আজিমপুর ডিভিশনে নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ

বগুড়ায় পরকীয়া প্রেমের টানে সেঞ্চুরি মোটেলে ফুর্তি করতে এসে প্রেমিকের রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকা আটক।

আজ ৮ জুন, ২০২৬ সোমবার বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকার আবাসিক ‘সেঞ্চুরি মোটেলে’ পরকীয়া প্রেমের টানে ফুর্তি করতে এসে বিপুল (৪০) নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই মোটেলে লা/শ রেখে পালিয়ে যান তার প্রেমিকা মোর্শেদা বেগম (৩৫)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

নিহত বিপুল বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। আটক হওয়া মোর্শেদা বেগম দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে বিপুল ও মোর্শেদা বেগম নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেঞ্চুরি মোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তারা দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন। মোটেলের কক্ষটিতে অবস্থানের সময় হঠাৎ করেই বিপুল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।

বিপুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখে মোর্শেদা বেগম ভয় পেয়ে যান। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারকে না জানিয়ে এবং কাউকে কোনো কিছু না বলে কৌশলে মোটেল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় রুমের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং রুমের দরজা সামান্য খোলা দেখে মোটেল স্টাফদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে বিপুলকে অচেতন অবস্থায় বেডে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে

খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লা/শের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পুলিশ মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে, বিপুল নামের ওই ব্যক্তির সাথে এক নারী কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি তড়িঘড়ি করে মোটেল থেকে একাকী বের হয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোটেলে দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। বগুড়া সদর থানার একটি বিশেষ টিম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি এলাকা থেকে অভিযুক্ত প্রেমিকা মোর্শেদা বেগমকে আটক করে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত উত্তেজক কোনো ওষুধ সেবনের কারণে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুলের মৃ*ত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া মোর্শেদা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি এবং বিপুলের অসুস্থতার পর পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর বগুড়া শহরের আবাসিক হোটেল ও মোটেলগুলোতে তদারকি এবং বোর্ডারদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে আবারো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের

বগুড়ায় পরকীয়া প্রেমের টানে সেঞ্চুরি মোটেলে ফুর্তি করতে এসে প্রেমিকের রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকা আটক।

আপডেট সময় : ১০:০১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আজ ৮ জুন, ২০২৬ সোমবার বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকার আবাসিক ‘সেঞ্চুরি মোটেলে’ পরকীয়া প্রেমের টানে ফুর্তি করতে এসে বিপুল (৪০) নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই মোটেলে লা/শ রেখে পালিয়ে যান তার প্রেমিকা মোর্শেদা বেগম (৩৫)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

নিহত বিপুল বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। আটক হওয়া মোর্শেদা বেগম দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে বিপুল ও মোর্শেদা বেগম নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেঞ্চুরি মোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তারা দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন। মোটেলের কক্ষটিতে অবস্থানের সময় হঠাৎ করেই বিপুল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।

বিপুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখে মোর্শেদা বেগম ভয় পেয়ে যান। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারকে না জানিয়ে এবং কাউকে কোনো কিছু না বলে কৌশলে মোটেল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় রুমের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং রুমের দরজা সামান্য খোলা দেখে মোটেল স্টাফদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে বিপুলকে অচেতন অবস্থায় বেডে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে

খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লা/শের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পুলিশ মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে, বিপুল নামের ওই ব্যক্তির সাথে এক নারী কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি তড়িঘড়ি করে মোটেল থেকে একাকী বের হয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোটেলে দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। বগুড়া সদর থানার একটি বিশেষ টিম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি এলাকা থেকে অভিযুক্ত প্রেমিকা মোর্শেদা বেগমকে আটক করে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত উত্তেজক কোনো ওষুধ সেবনের কারণে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুলের মৃ*ত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া মোর্শেদা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি এবং বিপুলের অসুস্থতার পর পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর বগুড়া শহরের আবাসিক হোটেল ও মোটেলগুলোতে তদারকি এবং বোর্ডারদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে আবারো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।