ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে মহা মিছিল, ধর্মতলা উত্তাল।  ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হলো পবিত্র উল্টো রথযাত্রা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। রাউজান ফকিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উল্টো রথযাত্রা সম্পন্ন। রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি বনাম জবাবদিহি: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮, ৫০, ৫১, ৫২ ও ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি সাংবিধানিক বিশ্লেষণ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বাংলাদেশের সাংবিধানিক উত্তরণ: ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

বগুড়ায় পরকীয়া প্রেমের টানে সেঞ্চুরি মোটেলে ফুর্তি করতে এসে প্রেমিকের রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকা আটক।

আজ ৮ জুন, ২০২৬ সোমবার বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকার আবাসিক ‘সেঞ্চুরি মোটেলে’ পরকীয়া প্রেমের টানে ফুর্তি করতে এসে বিপুল (৪০) নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই মোটেলে লা/শ রেখে পালিয়ে যান তার প্রেমিকা মোর্শেদা বেগম (৩৫)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

নিহত বিপুল বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। আটক হওয়া মোর্শেদা বেগম দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে বিপুল ও মোর্শেদা বেগম নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেঞ্চুরি মোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তারা দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন। মোটেলের কক্ষটিতে অবস্থানের সময় হঠাৎ করেই বিপুল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।

বিপুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখে মোর্শেদা বেগম ভয় পেয়ে যান। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারকে না জানিয়ে এবং কাউকে কোনো কিছু না বলে কৌশলে মোটেল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় রুমের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং রুমের দরজা সামান্য খোলা দেখে মোটেল স্টাফদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে বিপুলকে অচেতন অবস্থায় বেডে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে

খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লা/শের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পুলিশ মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে, বিপুল নামের ওই ব্যক্তির সাথে এক নারী কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি তড়িঘড়ি করে মোটেল থেকে একাকী বের হয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোটেলে দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। বগুড়া সদর থানার একটি বিশেষ টিম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি এলাকা থেকে অভিযুক্ত প্রেমিকা মোর্শেদা বেগমকে আটক করে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত উত্তেজক কোনো ওষুধ সেবনের কারণে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুলের মৃ*ত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া মোর্শেদা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি এবং বিপুলের অসুস্থতার পর পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর বগুড়া শহরের আবাসিক হোটেল ও মোটেলগুলোতে তদারকি এবং বোর্ডারদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে আবারো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে!

বগুড়ায় পরকীয়া প্রেমের টানে সেঞ্চুরি মোটেলে ফুর্তি করতে এসে প্রেমিকের রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকা আটক।

আপডেট সময় : ১০:০১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আজ ৮ জুন, ২০২৬ সোমবার বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকার আবাসিক ‘সেঞ্চুরি মোটেলে’ পরকীয়া প্রেমের টানে ফুর্তি করতে এসে বিপুল (৪০) নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই মোটেলে লা/শ রেখে পালিয়ে যান তার প্রেমিকা মোর্শেদা বেগম (৩৫)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

নিহত বিপুল বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। আটক হওয়া মোর্শেদা বেগম দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে বিপুল ও মোর্শেদা বেগম নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেঞ্চুরি মোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তারা দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন। মোটেলের কক্ষটিতে অবস্থানের সময় হঠাৎ করেই বিপুল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।

বিপুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখে মোর্শেদা বেগম ভয় পেয়ে যান। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারকে না জানিয়ে এবং কাউকে কোনো কিছু না বলে কৌশলে মোটেল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় রুমের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং রুমের দরজা সামান্য খোলা দেখে মোটেল স্টাফদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে বিপুলকে অচেতন অবস্থায় বেডে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে

খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লা/শের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পুলিশ মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে, বিপুল নামের ওই ব্যক্তির সাথে এক নারী কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি তড়িঘড়ি করে মোটেল থেকে একাকী বের হয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোটেলে দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। বগুড়া সদর থানার একটি বিশেষ টিম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি এলাকা থেকে অভিযুক্ত প্রেমিকা মোর্শেদা বেগমকে আটক করে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত উত্তেজক কোনো ওষুধ সেবনের কারণে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুলের মৃ*ত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া মোর্শেদা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি এবং বিপুলের অসুস্থতার পর পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর বগুড়া শহরের আবাসিক হোটেল ও মোটেলগুলোতে তদারকি এবং বোর্ডারদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে আবারো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।