জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বুধবার (২২ জুলাই,২৬) দিনব্যাপী সেমিনার ও নজরুল সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকাল ১০টায় সেমিনার এবং দুপুর ২টায় সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর। সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও চবি নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে কোনো একক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি প্রেম, বিদ্রোহ, সাম্য, স্বাধীনতা, মানবতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও তারুণ্যের কবি। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন যুগে যুগে মানুষকে ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা এবং নারী-পুরুষের সমঅধিকারের শিক্ষা দিয়েছে। তিনি বলেন, নজরুলের অমর বাণী— “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”—আজও সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাঠদানের স্থান নয়; এটি গবেষণা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশের কেন্দ্র। শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা এবং ক্লাবভিত্তিক কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল ক্লাব, রবীন্দ্র ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাবসহ বিভিন্ন সৃজনশীল প্ল্যাটফর্মকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম একাধারে বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি। দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব অতিক্রম করেও তিনি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর কবিতা সমাজের বৈষম্য, শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা এবং দেশপ্রেম ও গণজাগরণের অনন্য প্রেরণা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সাহস, আত্মমর্যাদা ও গণজাগরণের চিরন্তন প্রেরণা। তাঁর অগ্নিঝরা কবিতা ও গান মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, আত্মবিশ্বাস এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। তিনি আয়োজক ও উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
সেমিনারে ‘দেশপ্রেম, মানবতা ও গণজাগরণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি নজরুলের সাম্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বিপ্লবী সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ এবং অধ্যাপক ড. তাসলিমা বেগম। এছাড়া বক্তব্য দেন চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সঙ্গীত বিভাগের সভাপতি মিশকাতুল মমতাজ।
আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা নজরুলের গান ও মনোমুগ্ধকর নৃত্যআলেখ্য পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, চাকসুর প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 






















