দিনাজপুরে ‘ম্যাশসাইকেল’ প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার সভা অনুষ্ঠিত
মিলন আহাম্মেদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি।।
আদিবাসী নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, টেকসই জীবিকা সৃষ্টি এবং কৃষি বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ম্যাশসাইকেল’ প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার প্রোগ্রাম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দিনাজপুর জেলা পরিষদ হলরুমে মুক্ত চিন্তা যুব সেবা সংঘের উদ্যোগে এবং দ্যা আর্থ সোসাইটির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ফরিদুজ্জামান। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ কোর্ডিনেটর মোস্তফা কামাল, দিনাজপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক প্রভাতী রানী, দিনাজপুর সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সুরভী আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোছাঃ মাসকুরা খাতুন, ওয়াইডব্লিউসিএ এর সাধারণ সম্পাদক পপি ফ্লোরেন্স লাকড়া, সমাজকর্মী মুকিদ হায়দার শিপন।
বক্তারা জানান, এক সময় আর্থিক সংকটে থাকা এসব পরিবারের নারীরা বর্তমানে মাশরুম চাষ ও জৈব ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে নিয়মিত আয় করছেন। এর ফলে পরিবারে তাদের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কৃষি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা। ধানের খড়সহ স্থানীয় কৃষি অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে মাশরুম উৎপাদন করা হচ্ছে। পরে উৎপাদনের অবশিষ্ট উপাদান থেকে জৈব ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি করে একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রায় শূন্য-বর্জ্যভিত্তিক উৎপাদন চক্র গড়ে তোলা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপকারভোগী নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এই প্রকল্প তাদের শুধু আয় করার সুযোগই তৈরি করেনি, বরং আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথও দেখিয়েছে। তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মাশরুম উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, স্থানীয় অংশীজন, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কারিগরি সহায়তা, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং, বাজারসংযোগ এবং প্রকল্প সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় সম্পদ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নারী-কেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। এতে একদিকে যেমন নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে কৃষি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প বাস্তবায়নকারীরা জানান, ম্যাশসাইকেল শুধু মাশরুম উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি উদ্যোগ নয়; এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা এবং সার্কুলার অর্থনীতির একটি কার্যকর স্থানীয় মডেল। ভবিষ্যতে আরও বেশি নারীকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সারাক্ষণ ডেস্ক 



















