খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৯নং চাঁদখালী ইউনিয়নে হাসান (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা নাজমুল হুদা মিন্টু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। রবিবার বিকেলে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মিন্টু হাসানের কাছে মাদক ব্যবসার কথিত লভ্যাংশ দাবি করে আসছিলেন। পাশাপাশি চাঁদখালী গরুর হাট সংলগ্ন হাসানের চায়ের দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্যও বিভিন্ন সময় চাপ, মারধর ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়। তবে হাসান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।
স্বজনদের দাবি, রবিবার বিকেল আনুমানিক ৫ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত মিন্টু ও তার সহযোগীরা হাসানকে চোর আখ্যা দিয়ে একটি মব সৃষ্টি করে এবং তাকে বেঁধে মারধর করে। এ সময় হাসানের বড় ভাই ইয়াসিন ও তার পিতা মালেক বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে মারধরের ফলে হাসানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ হাসানের শারীরিক অবস্থা দেখে হাসানকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে মিন্টু নিজেই হাসানকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসানকে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর খবর জানার পর মিন্টু মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে চলে যান। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যরাও এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
হাসানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মিন্টুকে না পেয়ে তার ব্যবহৃত স্বেচ্ছাসেবকদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছে।
নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, মারধরের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ আগেই অবগত ছিল। তারা দাবি করেন, পাইকগাছা থানার ওসি (কিবরিয়া’র) সাথে মিন্টুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার আগে মিন্টুর কথা মতো থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসেছিলেন এবং হাসানকে পুলিশে সোপর্দ করার ভয় দেখানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫-ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মিন্টুর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমুল হুদা মিন্টুর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















