চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম ও পশ্চিম চেচুরিয়া প্রধান সড়ক (ভোলার ঘাটা থেকে গুনাপাড়া পর্যন্ত) দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি সর্বশেষ বড় আকারে নির্মাণ করা হয়েছিল ২০০০ সালের পূর্বে বিএনপি সরকারের আমলে। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটির উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়কটি ভেঙে পড়ে বর্তমানে চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। প্রতিদিন শত-শত শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদাময় হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায়।
এছাড়া সড়কের পাশেই অবস্থিত সূর্য হাসি ক্লিনিক, যেখানে প্রতিদিন বহু রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ডেলিভারি রোগীসহ জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের জন্য ভাঙাচোরা এই সড়ক বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে এই রাস্তা ব্যবহার করা অত্যন্ত কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে গুনাপাড়া সড়কের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে প্রকল্পটি মূল সড়কে বাস্তবায়ন না করে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, গুনাপাড়া সড়কের নামে অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ পায়রাং সড়কে সম্পন্ন করা হয়েছিল, ফলে প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় গুনাপাড়া এলাকার মানুষ।
এলাকাবাসীর মতে, এই সড়কটি মধ্যম ও পশ্চিম চেচুরিয়ার হাজারো মানুষের একমাত্র প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত রয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটির সংস্কার, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা তদন্ত এবং জনগণের ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে মধ্যম ও পশ্চিম চেচুরিয়ার ভোলার ঘাটা থেকে গুনাপাড়া পর্যন্ত প্রধান সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হোক এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটানো হোক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















