ঢাকা ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : ১জনের ফাঁসি ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা, ৪জন খালাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে। ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কচুয়ায় গাছ কাটতে গিয়ে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু, বিচার দাবি পরিবারের। নেত্রকোণায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ৭তম ‎মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা,দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ। শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হোক। হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি।

ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ।

ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙনে গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়া সংলগ্ন শহররক্ষা বাঁধের একটি অংশ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। নদীর ভাঙনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে এলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে যান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম. হেদায়েতুল ইসলাম, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. মুশফিকুর রহমান, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ, জেলা প্রশাসনের নাজির মো. আশরাফুজ্জামান নাহিদ, গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নদীভাঙনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে নদীর সঙ্গে শহররক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুটে নেমে এসেছে। ফলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনের সময় শহররক্ষা বাঁধের ওপর একটি বালুবাহী বাল্কহেড থেকে নামানো বালু স্তুপ করে রাখা দেখতে পান জেলা প্রশাসক। বিষয়টি বাঁধের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শহররক্ষা বাঁধে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঘাঘট নদীর ভাঙনে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা থেকেই যাবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহররক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানানো হয়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ।

ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ।

আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙনে গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়া সংলগ্ন শহররক্ষা বাঁধের একটি অংশ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। নদীর ভাঙনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে এলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে যান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম. হেদায়েতুল ইসলাম, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. মুশফিকুর রহমান, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ, জেলা প্রশাসনের নাজির মো. আশরাফুজ্জামান নাহিদ, গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নদীভাঙনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে নদীর সঙ্গে শহররক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুটে নেমে এসেছে। ফলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনের সময় শহররক্ষা বাঁধের ওপর একটি বালুবাহী বাল্কহেড থেকে নামানো বালু স্তুপ করে রাখা দেখতে পান জেলা প্রশাসক। বিষয়টি বাঁধের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শহররক্ষা বাঁধে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঘাঘট নদীর ভাঙনে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা থেকেই যাবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহররক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানানো হয়।