রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মমিনপুর এলাকার সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক স্থাপন, অর্থ গ্রহণ এবং পরবর্তীতে বিয়ে না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খুলনার খালিশপুর এলাকার এক নারী কুরসিয়া আক্তার-এর পক্ষ থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে তাকে আইনি নোটিশ পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে অভিযোগসংক্রান্ত আরও কিছু নথি ও লিখিত বক্তব্য পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত লিগ্যাল নোটিশে মোরশেদ আলী মারুফকে নোটিশের প্রাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এমডি. সাদিকুর রহমান ভূঁইয়ানের প্যাডে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়। এতে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মোরশেদ আলী মারুফের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীর সম্পর্ক ছিল এবং একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
নোটিশের বর্ণনা অনুযায়ী, অভিযোগকারী মোরশেদ আলী মারুফের সঙ্গে বিবাহের আশ্বাসে সম্পর্ক স্থাপন ও শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছেন। পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে চাপ দেওয়া হলে তিনি বিভিন্ন সময় ‘আজ নয়, কাল’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন—এমন দাবিও নোটিশে রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে, দীর্ঘ সময়ের সম্পর্কের পরও বিয়ের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রাপ্ত নথির আরেক অংশে বলা হয়েছে, সম্পর্ক চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগকারীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ গ্রহণ করেছেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস করে এসব অর্থ দেওয়া হয়েছিল। তবে অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও লেনদেনের পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, মোরশেদ আলী মারুফ এর আগে পাপিয়া হোসেন সম্পা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। ওই সংসারে আর্থিক চাহিদা ও পারিবারিক অশান্তি ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে আরও দাবি করা হয়, পরবর্তীতে তিনি অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হন। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা অবশ্য যাচাই করা যায়নি।
নথিতে ‘আঁখি’ নামে এক নারীর কথাও উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোরশেদ আলী মারুফ ওই নারীকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং তার কাছ থেকেও অর্থ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তাদের কাবিন হওয়ার কথা ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে উল্লেখিত নথি ছাড়া অন্য কোনো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময় যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোরশেদ আলী মারুফের অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় জানতে পেরে তার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আত্মহত্যার হুমকি দেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আঁখি’কে নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে, লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগকারী পক্ষ তাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করে আইনগত প্রতিকার চেয়েছে। নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টির সমাধান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে মোরশেদ আলী মারুফের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ প্রতিবেদনের সময় তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে—এমন তথ্য অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যে রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট লিখিত নথি ও অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে; এগুলো আদালতে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















