ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
শিক্ষকের সামনে বই খুলে পরীক্ষা, সাংবাদিকদের মারধর করে আটকে রাখা,এ কোন বর্বরতা? যশোরের শার্শায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী নাসির-সুমন চক্রের মিথ্যা অপহরণ মামলার বাদি সাক্ষী,লাপাত্তা। ডুমুরিয়ায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে তীর্থ ফৌজদার অভিযুক্ত। মাগুরা জার্নালিস্ট ফোরাম ঢাকা’র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি শাহিনুর, সম্পাদক রবি। সারাক্ষণ বার্তায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লিপি। তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ঘুসকান্ডে চুড়ান্তভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। প্রতিবাদও কি ‘ম্যানেজড’? গণপূর্তের কায়কোবাদকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন : এক পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব অন্য মাধ্যমে—‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’র অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ?   ৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, কোটালীপাড়ায় আদালতে মামলা।
গাংনীর কাজীপুর ডিগ্রি কলেজের ঘটনায় দুই শিক্ষক অব্যাহতি ও গ্রেফতার—হাতকড়া পরা এই দৃশ্যের লজ্জা কার?

শিক্ষকের সামনে বই খুলে পরীক্ষা, সাংবাদিকদের মারধর করে আটকে রাখা,এ কোন বর্বরতা?

 

পরীক্ষার হল। সামনে প্রশ্নপত্র। হাতে কলম। একজন পরীক্ষার্থীর কাছে থাকার কথা শুধু তার অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও প্রস্তুতি। কিন্তু মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের একটি ঘটনায় সেই চিরচেনা পরীক্ষার দৃশ্য যেন হঠাৎ বদলে গেছে।

অভিযোগ উঠেছে—বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের কেউ প্রকাশ্যে বই খুলে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে ChatGPT খুলে উত্তর খুঁজছিলেন। আরও বিস্ময়কর অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই এসব ঘটছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগও সামনে এসেছে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করা হয়েছিল—এমন অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনার পর দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ভ্যানে ওঠানোর সময় তাদের হাতে হাতকড়া—এই দৃশ্য ইতোমধ্যে আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে।

এ লজ্জা কার?

শুধু দুই শিক্ষকের?

শুধু কয়েকজন পরীক্ষার্থীর?

নাকি আমাদের পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার?

পরীক্ষার হলে বই—দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা তখন কোথায় ছিলেন?

পরীক্ষার্থীরা নকল করলে তার দায় অবশ্যই পরীক্ষার্থীর। কিন্তু প্রকাশ্যে বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার মতো ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও পরিদর্শকরা কী করছিলেন?

পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মূল দায়িত্বই হলো পরীক্ষার শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। একজন পরীক্ষার্থী গোপনে নকল করার চেষ্টা করলে তা এক ধরনের অপরাধ; কিন্তু প্রকাশ্যে বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার বিষয়।

আর যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কোনো শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের নকল করতে সহযোগিতা করেছেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে তা উপেক্ষা করেছেন, তাহলে তা শুধু দায়িত্বে অবহেলা নয়—পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে গুরুতর প্রতারণা।

ChatGPT—শিক্ষার বন্ধু, নাকি পরীক্ষার হলে নকলের হাতিয়ার?

প্রযুক্তি এখন শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ChatGPT-সহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও বিষয় বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

কিন্তু পরীক্ষার নিয়ম যদি বাইরের সহায়তা নিষিদ্ধ করে, তাহলে পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনে ChatGPT খুলে উত্তর লেখা কোনোভাবেই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নয়। এটি পরীক্ষার উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

কারণ পরীক্ষা হচ্ছে—একজন শিক্ষার্থী নিজে কী জানেন, তা যাচাই করার প্রক্রিয়া।

যদি উত্তর আসে বই থেকে, মোবাইল থেকে কিংবা AI থেকে, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়—পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেন, নাকি প্রযুক্তি পরীক্ষা দিল?

দুই শিক্ষক অব্যাহতি, তারপর গ্রেফতার—ঘটনার গভীরে যেতে হবে

ঘটনার পর দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং আজ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে—এটাই স্বাভাবিক। কেউ অপরাধ করলে তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা বা অন্য যে পরিচয়েরই হোন না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে নন।

তবে গ্রেফতারই যেন তদন্তের শেষ কথা না হয়।

বরং এখনই প্রয়োজন আরও গভীর অনুসন্ধান।

তদন্তে খতিয়ে দেখা দরকার—শুধু ওই দুই শিক্ষকই কি দায়ী, নাকি পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব বণ্টন, নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার মধ্যেও কোনো গাফিলতি ছিল? পরীক্ষার্থীরা বই ও মোবাইল নিয়ে হলে প্রবেশ করলেন কীভাবে? কারা তা অনুমোদন বা উপেক্ষা করলেন? এর পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ, কোনো চক্র বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ছিল কি না—সবকিছুই নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

হাতকড়া পরা দুই শিক্ষক: দৃশ্যটি আমাদের জন্যও বিব্রতকর

আজ যখন দুই শিক্ষককে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের ভ্যানে তোলা হচ্ছে, তখন দৃশ্যটি শুধু দুই ব্যক্তির জন্য অপমানজনক কি না—সেই প্রশ্নে থেমে গেলে চলবে না।

একজন শিক্ষক সমাজের কাছে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক। একজন শিক্ষক যখন অপরাধের অভিযোগে হাতকড়া পরেন, তখন তার ব্যক্তিগত মর্যাদার পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তিও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

তবে একই সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে—গ্রেফতার মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতের বিচারে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তের আইনি অধিকার রয়েছে।

সুতরাং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত না করে, স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়—

একজন শিক্ষককে কেন হাতকড়া পরিয়ে পরীক্ষার অনিয়মের মামলায় পুলিশের ভ্যানে উঠতে হলো?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু ওই দুই ব্যক্তিকে দিয়ে শেষ করা যাবে না।

সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে কি সত্যকে আটকে রাখা যায়?

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ।

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করা হয় এবং তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। আরও অভিযোগ—অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করা হয়েছিল।

যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।

কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি সংবাদ পছন্দ না করলে প্রতিবাদ করতে পারেন, সংশ্লিষ্ট তথ্য দিতে পারেন, ভুল সংবাদ হলে আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিককে ভয় দেখানো, শারীরিকভাবে হেনস্তা করা কিংবা অর্থের বিনিময়ে সংবাদ বন্ধ করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বরং সত্য গোপন করার চেষ্টা যত বাড়ে, মানুষের সন্দেহ তত গভীর হয়।

নকলের বিরুদ্ধে কঠোরতা চাই—কিন্তু আইনের পথেই

পরীক্ষায় নকল রোধে কঠোরতা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই কঠোরতা হতে হবে নিয়মতান্ত্রিক।

কোনো পরীক্ষার্থী অনিয়ম করলে তাকে বহিষ্কার, পরীক্ষা বাতিল বা বিধি অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অনিয়মে সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধেও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

কিন্তু শাস্তির নামে মারধর, আটকে রাখা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আইন ভাঙার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে যেন আইন ভাঙার নতুন অভিযোগ তৈরি না হয়।

লজ্জা কার?

আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তাই এখানেই।

হাতকড়া পরা দুই শিক্ষক নিশ্চয়ই একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

কিন্তু তাদের গ্রেফতারের দৃশ্য দেখে আমাদের নিজেদেরও আয়নায় তাকাতে হবে।

কেন একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সাহস তৈরি হয়?

কেন একজন পরীক্ষার্থী মনে করেন যে মোবাইল ফোনে ChatGPT খুলেও পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব?

কেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন না?

কেন অনিয়ম প্রকাশ্যে এলে সাংবাদিকদের থামানোর চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে?

এবং কেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষককে শেষ পর্যন্ত হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের ভ্যানে উঠতে হয়?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না খুঁজে শুধু দুইজনকে গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

কারণ একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়ম কখনো একদিনে জন্ম নেয় না। তার পেছনে থাকে দুর্বল নজরদারি, দায়িত্বহীনতা, নৈতিক অবক্ষয়, কখনো ব্যক্তিস্বার্থ এবং কখনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা।

শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সততার

আমরা সন্তানদের বলি—নকল করবে না, মিথ্যা বলবে না, অন্যায় করবে না।

কিন্তু তারা যদি দেখে পরীক্ষার হলেই নিয়মের সঙ্গে আপস করা যায়, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তা উপেক্ষা করেন, আর অনিয়ম প্রকাশ পেলে সংবাদকর্মীকে থামানোর চেষ্টা করা হয়—তাহলে তারা কোন শিক্ষা পাবে?

একটি জাতির শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ে থাকে না। শিক্ষা থাকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আচরণে, পরীক্ষার হলের পরিবেশে এবং দায়িত্বশীল মানুষের কর্মকাণ্ডে।

তাই মেহেরপুরের গাংনীর কাজীপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

পরীক্ষা শুধু জ্ঞান যাচাইয়ের ব্যবস্থা নয়; পরীক্ষা আমাদের নৈতিকতারও পরীক্ষা।

যে শিক্ষার্থী নকল করে, সে ব্যর্থ।

যে শিক্ষক নকল হতে দেন, তিনিও ব্যর্থ।

যে প্রতিষ্ঠান অনিয়ম ঠেকাতে পারে না, সেই ব্যবস্থাপনাও ব্যর্থ।

আর অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে যদি কেউ গণমাধ্যমকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে ব্যর্থতা আরও গভীর।

এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হোক। কে দায়ী, কে নির্দোষ—তা তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হোক। পরীক্ষার্থীদের ভূমিকা, শিক্ষকদের ভূমিকা, কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাও সমান গুরুত্বে তদন্ত করা হোক।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

কারণ আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই না, যেখানে মেধার চেয়ে মোবাইল শক্তিশালী, বইয়ের চেয়ে নকল কার্যকর এবং সত্যের চেয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে গোপন সমঝোতা।

হাতকড়া পরা দুই শিক্ষকের ছবি হয়তো আজ আমাদের চোখে লজ্জার দৃশ্য। কিন্তু সেই লজ্জাকে শুধু দুই ব্যক্তির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না।

আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—

“এ লজ্জা কার?”

যদি পরীক্ষার হলে নকল হয়ে থাকে—লজ্জা পরীক্ষার্থীর।

যদি শিক্ষক সহযোগিতা করে থাকেন—লজ্জা শিক্ষকের।

যদি কর্তৃপক্ষ জেনেও ব্যবস্থা না নিয়ে থাকে—লজ্জা ব্যবস্থাপনার।

যদি সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকে—লজ্জা সেই মানসিকতার।

আর যদি এসবের পেছনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা থেকে থাকে—তাহলে লজ্জা শুধু ব্যক্তির নয়, আমাদের পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার।

সেই লজ্জা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ—সত্য উদঘাটন, জবাবদিহি, ন্যায়বিচার এবং পরীক্ষার হলে শতভাগ সততা নিশ্চিত করা।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকের সামনে বই খুলে পরীক্ষা, সাংবাদিকদের মারধর করে আটকে রাখা,এ কোন বর্বরতা?

গাংনীর কাজীপুর ডিগ্রি কলেজের ঘটনায় দুই শিক্ষক অব্যাহতি ও গ্রেফতার—হাতকড়া পরা এই দৃশ্যের লজ্জা কার?

শিক্ষকের সামনে বই খুলে পরীক্ষা, সাংবাদিকদের মারধর করে আটকে রাখা,এ কোন বর্বরতা?

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

 

পরীক্ষার হল। সামনে প্রশ্নপত্র। হাতে কলম। একজন পরীক্ষার্থীর কাছে থাকার কথা শুধু তার অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও প্রস্তুতি। কিন্তু মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের একটি ঘটনায় সেই চিরচেনা পরীক্ষার দৃশ্য যেন হঠাৎ বদলে গেছে।

অভিযোগ উঠেছে—বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের কেউ প্রকাশ্যে বই খুলে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে ChatGPT খুলে উত্তর খুঁজছিলেন। আরও বিস্ময়কর অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই এসব ঘটছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগও সামনে এসেছে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করা হয়েছিল—এমন অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনার পর দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ভ্যানে ওঠানোর সময় তাদের হাতে হাতকড়া—এই দৃশ্য ইতোমধ্যে আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে।

এ লজ্জা কার?

শুধু দুই শিক্ষকের?

শুধু কয়েকজন পরীক্ষার্থীর?

নাকি আমাদের পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার?

পরীক্ষার হলে বই—দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা তখন কোথায় ছিলেন?

পরীক্ষার্থীরা নকল করলে তার দায় অবশ্যই পরীক্ষার্থীর। কিন্তু প্রকাশ্যে বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার মতো ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও পরিদর্শকরা কী করছিলেন?

পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মূল দায়িত্বই হলো পরীক্ষার শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। একজন পরীক্ষার্থী গোপনে নকল করার চেষ্টা করলে তা এক ধরনের অপরাধ; কিন্তু প্রকাশ্যে বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার বিষয়।

আর যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কোনো শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের নকল করতে সহযোগিতা করেছেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে তা উপেক্ষা করেছেন, তাহলে তা শুধু দায়িত্বে অবহেলা নয়—পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে গুরুতর প্রতারণা।

ChatGPT—শিক্ষার বন্ধু, নাকি পরীক্ষার হলে নকলের হাতিয়ার?

প্রযুক্তি এখন শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ChatGPT-সহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও বিষয় বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

কিন্তু পরীক্ষার নিয়ম যদি বাইরের সহায়তা নিষিদ্ধ করে, তাহলে পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনে ChatGPT খুলে উত্তর লেখা কোনোভাবেই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নয়। এটি পরীক্ষার উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

কারণ পরীক্ষা হচ্ছে—একজন শিক্ষার্থী নিজে কী জানেন, তা যাচাই করার প্রক্রিয়া।

যদি উত্তর আসে বই থেকে, মোবাইল থেকে কিংবা AI থেকে, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়—পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেন, নাকি প্রযুক্তি পরীক্ষা দিল?

দুই শিক্ষক অব্যাহতি, তারপর গ্রেফতার—ঘটনার গভীরে যেতে হবে

ঘটনার পর দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং আজ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে—এটাই স্বাভাবিক। কেউ অপরাধ করলে তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা বা অন্য যে পরিচয়েরই হোন না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে নন।

তবে গ্রেফতারই যেন তদন্তের শেষ কথা না হয়।

বরং এখনই প্রয়োজন আরও গভীর অনুসন্ধান।

তদন্তে খতিয়ে দেখা দরকার—শুধু ওই দুই শিক্ষকই কি দায়ী, নাকি পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব বণ্টন, নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার মধ্যেও কোনো গাফিলতি ছিল? পরীক্ষার্থীরা বই ও মোবাইল নিয়ে হলে প্রবেশ করলেন কীভাবে? কারা তা অনুমোদন বা উপেক্ষা করলেন? এর পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ, কোনো চক্র বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ছিল কি না—সবকিছুই নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

হাতকড়া পরা দুই শিক্ষক: দৃশ্যটি আমাদের জন্যও বিব্রতকর

আজ যখন দুই শিক্ষককে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের ভ্যানে তোলা হচ্ছে, তখন দৃশ্যটি শুধু দুই ব্যক্তির জন্য অপমানজনক কি না—সেই প্রশ্নে থেমে গেলে চলবে না।

একজন শিক্ষক সমাজের কাছে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক। একজন শিক্ষক যখন অপরাধের অভিযোগে হাতকড়া পরেন, তখন তার ব্যক্তিগত মর্যাদার পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তিও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

তবে একই সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে—গ্রেফতার মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতের বিচারে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তের আইনি অধিকার রয়েছে।

সুতরাং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত না করে, স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়—

একজন শিক্ষককে কেন হাতকড়া পরিয়ে পরীক্ষার অনিয়মের মামলায় পুলিশের ভ্যানে উঠতে হলো?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু ওই দুই ব্যক্তিকে দিয়ে শেষ করা যাবে না।

সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে কি সত্যকে আটকে রাখা যায়?

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ।

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করা হয় এবং তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। আরও অভিযোগ—অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করা হয়েছিল।

যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।

কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি সংবাদ পছন্দ না করলে প্রতিবাদ করতে পারেন, সংশ্লিষ্ট তথ্য দিতে পারেন, ভুল সংবাদ হলে আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিককে ভয় দেখানো, শারীরিকভাবে হেনস্তা করা কিংবা অর্থের বিনিময়ে সংবাদ বন্ধ করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বরং সত্য গোপন করার চেষ্টা যত বাড়ে, মানুষের সন্দেহ তত গভীর হয়।

নকলের বিরুদ্ধে কঠোরতা চাই—কিন্তু আইনের পথেই

পরীক্ষায় নকল রোধে কঠোরতা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই কঠোরতা হতে হবে নিয়মতান্ত্রিক।

কোনো পরীক্ষার্থী অনিয়ম করলে তাকে বহিষ্কার, পরীক্ষা বাতিল বা বিধি অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অনিয়মে সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধেও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

কিন্তু শাস্তির নামে মারধর, আটকে রাখা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আইন ভাঙার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে যেন আইন ভাঙার নতুন অভিযোগ তৈরি না হয়।

লজ্জা কার?

আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তাই এখানেই।

হাতকড়া পরা দুই শিক্ষক নিশ্চয়ই একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

কিন্তু তাদের গ্রেফতারের দৃশ্য দেখে আমাদের নিজেদেরও আয়নায় তাকাতে হবে।

কেন একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সাহস তৈরি হয়?

কেন একজন পরীক্ষার্থী মনে করেন যে মোবাইল ফোনে ChatGPT খুলেও পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব?

কেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন না?

কেন অনিয়ম প্রকাশ্যে এলে সাংবাদিকদের থামানোর চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে?

এবং কেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষককে শেষ পর্যন্ত হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের ভ্যানে উঠতে হয়?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না খুঁজে শুধু দুইজনকে গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

কারণ একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়ম কখনো একদিনে জন্ম নেয় না। তার পেছনে থাকে দুর্বল নজরদারি, দায়িত্বহীনতা, নৈতিক অবক্ষয়, কখনো ব্যক্তিস্বার্থ এবং কখনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা।

শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সততার

আমরা সন্তানদের বলি—নকল করবে না, মিথ্যা বলবে না, অন্যায় করবে না।

কিন্তু তারা যদি দেখে পরীক্ষার হলেই নিয়মের সঙ্গে আপস করা যায়, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তা উপেক্ষা করেন, আর অনিয়ম প্রকাশ পেলে সংবাদকর্মীকে থামানোর চেষ্টা করা হয়—তাহলে তারা কোন শিক্ষা পাবে?

একটি জাতির শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ে থাকে না। শিক্ষা থাকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আচরণে, পরীক্ষার হলের পরিবেশে এবং দায়িত্বশীল মানুষের কর্মকাণ্ডে।

তাই মেহেরপুরের গাংনীর কাজীপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

পরীক্ষা শুধু জ্ঞান যাচাইয়ের ব্যবস্থা নয়; পরীক্ষা আমাদের নৈতিকতারও পরীক্ষা।

যে শিক্ষার্থী নকল করে, সে ব্যর্থ।

যে শিক্ষক নকল হতে দেন, তিনিও ব্যর্থ।

যে প্রতিষ্ঠান অনিয়ম ঠেকাতে পারে না, সেই ব্যবস্থাপনাও ব্যর্থ।

আর অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে যদি কেউ গণমাধ্যমকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে ব্যর্থতা আরও গভীর।

এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হোক। কে দায়ী, কে নির্দোষ—তা তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হোক। পরীক্ষার্থীদের ভূমিকা, শিক্ষকদের ভূমিকা, কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাও সমান গুরুত্বে তদন্ত করা হোক।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

কারণ আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই না, যেখানে মেধার চেয়ে মোবাইল শক্তিশালী, বইয়ের চেয়ে নকল কার্যকর এবং সত্যের চেয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে গোপন সমঝোতা।

হাতকড়া পরা দুই শিক্ষকের ছবি হয়তো আজ আমাদের চোখে লজ্জার দৃশ্য। কিন্তু সেই লজ্জাকে শুধু দুই ব্যক্তির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না।

আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—

“এ লজ্জা কার?”

যদি পরীক্ষার হলে নকল হয়ে থাকে—লজ্জা পরীক্ষার্থীর।

যদি শিক্ষক সহযোগিতা করে থাকেন—লজ্জা শিক্ষকের।

যদি কর্তৃপক্ষ জেনেও ব্যবস্থা না নিয়ে থাকে—লজ্জা ব্যবস্থাপনার।

যদি সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকে—লজ্জা সেই মানসিকতার।

আর যদি এসবের পেছনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা থেকে থাকে—তাহলে লজ্জা শুধু ব্যক্তির নয়, আমাদের পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার।

সেই লজ্জা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ—সত্য উদঘাটন, জবাবদিহি, ন্যায়বিচার এবং পরীক্ষার হলে শতভাগ সততা নিশ্চিত করা।