ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল! নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাষা কর্মশালা ও মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন। নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন। প্রায় ২০ কোটি টাকার স্থাপনার হদিস নেই, রামেবি ক্যাম্পাসে লুটপাটের অভিযোগ। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট’র উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু শিবির ও মেডিক্যাল ক্যাম্প সম্পন্ন। আখাউড়ায় বিশেষ অভিযানে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার একটি স্বপ্নের নাম মর্ম মাধুর্য বসু (তাথৈ) শুভ জন্মদিন, আমাদের প্রাণের আলো। হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন।

ফের নাব্যতা সংকটে ভোলা-লক্ষীপুর নৌপথ।

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৫৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

মেঘনা নদীতে আবারও নাব্যতা সংকটে পড়ে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌ রুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও কার্গো চলাচল প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় সময় মাঝনদীতে নৌযান আটকে পড়ার ঘটনায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ড্রেজিং চললেও কার্যকর তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর সংকটের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ২০০৬ সালে মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট চালু হয়। বর্তমানে এই রুটে ৫টি ফেরি ও ১৬টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রতিদিন ৫টি ফেরিতে প্রায় ৪৫০টি বাস ও ট্রাক এবং ১৬টি লঞ্চে পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী পারাপার হয়। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য রক্ষায় নদীতে দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো হলেও কার্যকরভাবে চলছে কেবল একটি। যেখানে ফেরি আটকে যায়, সেখানে খননকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে মেঘনার মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে রহমতখালী চ্যানেলে অত্যন্ত ধীরগতিতে ড্রেজিং চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় ভাটার সময়ে ডুবোচরে ফেরি আটকে যায় এবং নৌ চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে মেঘনার পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে ডুবোচর। লক্ষ্মীপুরে মজু চৌধুরীর ঘাটের প্রবেশ মুখ, রহমতখালী চ্যানেল, মতিরহাট টার্নিং মোড়, ইলিশা পূর্ব মাঝের চর ও ভোলা ইলিশা ঘাটের প্রবেশ মুখে নাব্যের অভাবে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি চলাচল করতে ৮­ থেকে ১০ ফুট পানির প্রয়োজন হলেও ভাটার সময়ে মাত্র ৫-৬ ফুট পানি থাকে।

কমল হাওলাদার নামে একজন লঞ্চমাস্টার জানান, ডুবোচরে জোয়ার-ভাটার সময় নৌযান আটকে যায়। যেখানে ড্রেজিং করা হয়, সেখানেই উত্তোলিত পলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অনেকে তেল চুরির সুযোগ নিচ্ছে। অনেক সময় লঞ্চ ও ফেরির জন্য ৫-৬ ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হয়। মাঝনদীতে আটকে থাকলে ২ ঘণ্টার পথ ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

গাড়িচালক মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগে আড়াই ঘণ্টায় লক্ষ্মীপুর থেকে ভোলায় পৌঁছাতাম। এখন ডুবোচরের কারণে লঞ্চ ও ফেরি ১০ কিলোমিটার ঘুরেও ভাটায় আটকে থাকে। লঞ্চ বা ফেরির জন্য আগের মতো এক ঘণ্টার পরিবর্তে এখন ৪-৫ ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি ও জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’ শারমিন আক্তার নামে একজন যাত্রী বলেন, ড্রেজিং হলেও কার্যকর কিছু হচ্ছে না। অসংখ্য ডুবোচর থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটের সামনে বিশাল ডুবোচর ও নদীর উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত চর জেগে উঠেছে। ভাটার সময় এগুলো দেখা যায়, তবে জোয়ারে আবার ডুবে যায়। তখন পানি মেপে মেপে লঞ্চ চলতে দেখা যায়। ড্রেজিং কাজ চলা সত্ত্বেও লঞ্চ ও ফেরিকে ছয়-সাত কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

ড্রেজিং বিআইডব্লিউটিএ উপসহকারী প্রকৌশলী হযরত হাসনাত নিপু বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে নদী খনন চলছে। মেঘনা জোয়ার-ভাটার নদী হওয়ায় ড্রেজিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। যতই খনন করা হোক, পলি আবার ভরে যায়। তাই ড্রেজিং থামানো যাবে না। বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল!

ফের নাব্যতা সংকটে ভোলা-লক্ষীপুর নৌপথ।

আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

মেঘনা নদীতে আবারও নাব্যতা সংকটে পড়ে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌ রুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও কার্গো চলাচল প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় সময় মাঝনদীতে নৌযান আটকে পড়ার ঘটনায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ড্রেজিং চললেও কার্যকর তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর সংকটের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ২০০৬ সালে মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট চালু হয়। বর্তমানে এই রুটে ৫টি ফেরি ও ১৬টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রতিদিন ৫টি ফেরিতে প্রায় ৪৫০টি বাস ও ট্রাক এবং ১৬টি লঞ্চে পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী পারাপার হয়। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য রক্ষায় নদীতে দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো হলেও কার্যকরভাবে চলছে কেবল একটি। যেখানে ফেরি আটকে যায়, সেখানে খননকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে মেঘনার মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে রহমতখালী চ্যানেলে অত্যন্ত ধীরগতিতে ড্রেজিং চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় ভাটার সময়ে ডুবোচরে ফেরি আটকে যায় এবং নৌ চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে মেঘনার পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে ডুবোচর। লক্ষ্মীপুরে মজু চৌধুরীর ঘাটের প্রবেশ মুখ, রহমতখালী চ্যানেল, মতিরহাট টার্নিং মোড়, ইলিশা পূর্ব মাঝের চর ও ভোলা ইলিশা ঘাটের প্রবেশ মুখে নাব্যের অভাবে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি চলাচল করতে ৮­ থেকে ১০ ফুট পানির প্রয়োজন হলেও ভাটার সময়ে মাত্র ৫-৬ ফুট পানি থাকে।

কমল হাওলাদার নামে একজন লঞ্চমাস্টার জানান, ডুবোচরে জোয়ার-ভাটার সময় নৌযান আটকে যায়। যেখানে ড্রেজিং করা হয়, সেখানেই উত্তোলিত পলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অনেকে তেল চুরির সুযোগ নিচ্ছে। অনেক সময় লঞ্চ ও ফেরির জন্য ৫-৬ ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হয়। মাঝনদীতে আটকে থাকলে ২ ঘণ্টার পথ ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

গাড়িচালক মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগে আড়াই ঘণ্টায় লক্ষ্মীপুর থেকে ভোলায় পৌঁছাতাম। এখন ডুবোচরের কারণে লঞ্চ ও ফেরি ১০ কিলোমিটার ঘুরেও ভাটায় আটকে থাকে। লঞ্চ বা ফেরির জন্য আগের মতো এক ঘণ্টার পরিবর্তে এখন ৪-৫ ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি ও জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’ শারমিন আক্তার নামে একজন যাত্রী বলেন, ড্রেজিং হলেও কার্যকর কিছু হচ্ছে না। অসংখ্য ডুবোচর থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটের সামনে বিশাল ডুবোচর ও নদীর উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত চর জেগে উঠেছে। ভাটার সময় এগুলো দেখা যায়, তবে জোয়ারে আবার ডুবে যায়। তখন পানি মেপে মেপে লঞ্চ চলতে দেখা যায়। ড্রেজিং কাজ চলা সত্ত্বেও লঞ্চ ও ফেরিকে ছয়-সাত কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

ড্রেজিং বিআইডব্লিউটিএ উপসহকারী প্রকৌশলী হযরত হাসনাত নিপু বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে নদী খনন চলছে। মেঘনা জোয়ার-ভাটার নদী হওয়ায় ড্রেজিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। যতই খনন করা হোক, পলি আবার ভরে যায়। তাই ড্রেজিং থামানো যাবে না। বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে।