ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় জাতীয় পার্টির উদ্যোগে উপজেলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা খিলগাঁওয়ে বাসা ভাড়ার নামে ডেকে এনে শিক্ষক ও বিজ্ঞানী সরোয়ারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা, থানায় মামলা খুলনায় গৃহবধূ খুশিকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে বিক্রির বিজ্ঞাপন, এসআরবির অভিযানে যুবক আটক শাহপরীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবা জব্দ ঢাকা জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬, সহযোগিতার জন্য পুলিশ সুপারের কৃতজ্ঞতা গফরগাঁওয়ে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী ও শাশুড়ির দিকে সন্দেহের তীর গোপালগঞ্জে রঘুনাথপুর সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ, ধুলায় দুর্ভোগে পথচারীরা প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি, জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে কেসিসি প্রশাসক টেকনাফের হ্নীলা রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, সাবেক সেনা সদস্যসহ আটক ৬

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর।

  • সুজন হোসেন রিফাত
  • আপডেট সময় : ১১:১২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

 

মাদারীপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে রোগীর স্বজন ও বিক্ষুব্ধ জনতা। (১৬ এপ্রিল,২৬) বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকায় কে. আই হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ‍পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে।

মারা যাওয়া ওই রোগীর নাম বিলকিস বেগম (৪৫)। তিনি সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকার সিরাজ আকনের স্ত্রী। বুধরাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে বিলকিস বেগম তাঁর পিঠে একটি ফোঁড়া অস্ত্রপাচর করার জন্য কে. আই হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। হাসপাতালের চিকিৎসক আহসান হাবিব তার পিঠে অস্ত্রপাচার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলকিস বেগমের জ্ঞান ফিরে না এলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ঢাকায় যাত্রাপথে বিলকিস বেগমের মৃত্যু হলে রোগীরা স্বজনরা তাকে ফের মাদারীপুরে নিয়ে আসেন। পরে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওই হাসপাতালে গিয়ে এ ঘটনার ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা হাসপাতালের নিচতলায় ব্যাপক ভাঙচুৃর চালায়। পরে তারা হাসপাতালের সামনে থাকা মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে এ ঘটনার চিকিৎসকের বিচার দাবি করে হাসপাতালটি বন্ধের দাবি জানায় আন্দোলনকারীরা। এ সময় প্রায় আধা ঘন্টা এই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সদর মডেল থানার পুলিশ ও সদর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও হাসপাতালটি সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়।

নিহত ওই নারীর নিকটাত্মীয় হাসান মাতুব্বর জানান, পিঠে ফোঁড়া নিয়ে আমার ওই রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডা. আহসান হাবিব চুক্তিতে তার পিঠের অপারেশন শুরু করে। অপারেশন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পরে তড়িঘরি করে আমার ওই রোগীকে তারা হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। তখনই আমাদের সন্দেহ হয়। সামান্য একটি পিঠের ফোঁড়া অপারেশন করতে গিয়ে রোগী মারা গেল। এটা কোন ভাবেই আমরা মানতে পারছি না। এখানে নিশ্চিত অবহেলা আর ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

ঘটনার সম্পর্কে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌকির হাসান সোহেল জানান, আমাদের হাসপাতালে সব অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ওই নারী তার কাছে আগেও সেবা নিয়েছেন। তিনি ভালো বলেই তার কাছে আবারও এসেছিলেন। তার ফোঁড়ায় পচন ধরেছিল। অপারেশন ঠিক মতই হয়েছে। পরে তার আইসিইউ দরকার হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে রোগী মারা গেলে তাদের স্বজনরা আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসকের চেম্বার, রিসিপশনসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।

এব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি এবং হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।‘ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় জাতীয় পার্টির উদ্যোগে উপজেলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর।

আপডেট সময় : ১১:১২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

 

 

মাদারীপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে রোগীর স্বজন ও বিক্ষুব্ধ জনতা। (১৬ এপ্রিল,২৬) বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকায় কে. আই হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ‍পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে।

মারা যাওয়া ওই রোগীর নাম বিলকিস বেগম (৪৫)। তিনি সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকার সিরাজ আকনের স্ত্রী। বুধরাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে বিলকিস বেগম তাঁর পিঠে একটি ফোঁড়া অস্ত্রপাচর করার জন্য কে. আই হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। হাসপাতালের চিকিৎসক আহসান হাবিব তার পিঠে অস্ত্রপাচার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলকিস বেগমের জ্ঞান ফিরে না এলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ঢাকায় যাত্রাপথে বিলকিস বেগমের মৃত্যু হলে রোগীরা স্বজনরা তাকে ফের মাদারীপুরে নিয়ে আসেন। পরে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওই হাসপাতালে গিয়ে এ ঘটনার ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা হাসপাতালের নিচতলায় ব্যাপক ভাঙচুৃর চালায়। পরে তারা হাসপাতালের সামনে থাকা মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে এ ঘটনার চিকিৎসকের বিচার দাবি করে হাসপাতালটি বন্ধের দাবি জানায় আন্দোলনকারীরা। এ সময় প্রায় আধা ঘন্টা এই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সদর মডেল থানার পুলিশ ও সদর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও হাসপাতালটি সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়।

নিহত ওই নারীর নিকটাত্মীয় হাসান মাতুব্বর জানান, পিঠে ফোঁড়া নিয়ে আমার ওই রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডা. আহসান হাবিব চুক্তিতে তার পিঠের অপারেশন শুরু করে। অপারেশন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পরে তড়িঘরি করে আমার ওই রোগীকে তারা হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। তখনই আমাদের সন্দেহ হয়। সামান্য একটি পিঠের ফোঁড়া অপারেশন করতে গিয়ে রোগী মারা গেল। এটা কোন ভাবেই আমরা মানতে পারছি না। এখানে নিশ্চিত অবহেলা আর ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

ঘটনার সম্পর্কে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌকির হাসান সোহেল জানান, আমাদের হাসপাতালে সব অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ওই নারী তার কাছে আগেও সেবা নিয়েছেন। তিনি ভালো বলেই তার কাছে আবারও এসেছিলেন। তার ফোঁড়ায় পচন ধরেছিল। অপারেশন ঠিক মতই হয়েছে। পরে তার আইসিইউ দরকার হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে রোগী মারা গেলে তাদের স্বজনরা আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসকের চেম্বার, রিসিপশনসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।

এব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি এবং হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।‘ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।