ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল! নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাষা কর্মশালা ও মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন। নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন। প্রায় ২০ কোটি টাকার স্থাপনার হদিস নেই, রামেবি ক্যাম্পাসে লুটপাটের অভিযোগ। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট’র উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু শিবির ও মেডিক্যাল ক্যাম্প সম্পন্ন। আখাউড়ায় বিশেষ অভিযানে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার একটি স্বপ্নের নাম মর্ম মাধুর্য বসু (তাথৈ) শুভ জন্মদিন, আমাদের প্রাণের আলো। হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন।

ছাত্রনেতা রাজনীতি ছেড়ে গাভী পালন করছে।

১৯৮৫ সালে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজে ভর্তি হন পাঁচবিবি থানা সংলগ্ন পূর্বপাশে বাড়ি মোঃ মাসুদ রানা। পড়ালেখার পাশাপাশি শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হয়ে ওঠেন তিনি ছাত্রদলের একজন হাতিয়ার। দলের প্রতি দ্বায়িত্বশীল আস্থাশীল নিষ্ঠাবান ও দলের প্রতি অনুষ্ঠানে শতভাগ তার উপস্থিতি সরব থাকত। মাসুদ রানা একসময় ছাত্রদলের নিবেদিত প্রাণ হলে ১৯৯১ সালের দিকে হাইকমান্ড তার হাতে থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে পড়ালেখার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। মাসুদ রানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন অন্ধভক্ত হওয়ায় ১৯৯৬ সালের দিকে ছাত্রদল ছেড়ে যুবদলে যোগদেন। যুবদলের রাজনীতি বেশি না করলেও পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শেষে জীবন-জীবিকার তাগিদে এখন বাড়িতে বিদেশি জাতের দুধের গাভি লালন-পালন করেন দলের দূরদিনের ও ত্যাগী নেতা।

দলের অনেক নবীন প্রবীণ নেতা জানায়, মাসুদ রানা ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছিল। মাঠ পর্যায়ে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনে থেকে তাকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ও জীবীকার তাগিদে তাকে এখন রাজনীতির মাঠ তাকে আর দেখা যায় না।

আক্ষেপ করে সাবেক এ নেতা বলেন, সুসময়ে নেতারা কর্মীদের অবদান ভুলে যায়। দিনের পর দিন দলের জন্য শ্রম দিলেও দুঃসময়ে কেউ খোঁজ নেয় না। রাজনীতির প্রেক্ষাপটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই রাজনীতির মাঠ ছেড়ে এখন গাভী পালন করছি বলেন, তিনি।

তবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে থাকলেও মনের গহীনে আজও জিয়ার আদর্শ লালন করেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতেই কয়েকটি বিদেশি গাভি লালন-পালন করছে। ৩’কন্যা সন্তানের জনক দলীয় সভা সমাবেশ, মিছিল মিটিং ও রাজপথের এক সময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের সিংহ পুরুষের সংসার চলে এখন গাভীর দুধ বিক্রির টাকায়।

একসময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল মিটিংয়ের পরিচিত মুখ এখন গোয়ালঘরেই ব্যস্ত সময় কাটছে। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মতো তিনিও এখন অনেকটা নীরব। তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীরাই দলের প্রাণ। একে একে এসব নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হলে সাংগঠনিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, দলের দুর্দিনের সকল কর্মীর মূল্যায়ন করা হবে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল!

ছাত্রনেতা রাজনীতি ছেড়ে গাভী পালন করছে।

আপডেট সময় : ১১:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

১৯৮৫ সালে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজে ভর্তি হন পাঁচবিবি থানা সংলগ্ন পূর্বপাশে বাড়ি মোঃ মাসুদ রানা। পড়ালেখার পাশাপাশি শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। হয়ে ওঠেন তিনি ছাত্রদলের একজন হাতিয়ার। দলের প্রতি দ্বায়িত্বশীল আস্থাশীল নিষ্ঠাবান ও দলের প্রতি অনুষ্ঠানে শতভাগ তার উপস্থিতি সরব থাকত। মাসুদ রানা একসময় ছাত্রদলের নিবেদিত প্রাণ হলে ১৯৯১ সালের দিকে হাইকমান্ড তার হাতে থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে পড়ালেখার জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় থানা ছাত্রদলের সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। মাসুদ রানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন অন্ধভক্ত হওয়ায় ১৯৯৬ সালের দিকে ছাত্রদল ছেড়ে যুবদলে যোগদেন। যুবদলের রাজনীতি বেশি না করলেও পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শেষে জীবন-জীবিকার তাগিদে এখন বাড়িতে বিদেশি জাতের দুধের গাভি লালন-পালন করেন দলের দূরদিনের ও ত্যাগী নেতা।

দলের অনেক নবীন প্রবীণ নেতা জানায়, মাসুদ রানা ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছিল। মাঠ পর্যায়ে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনে থেকে তাকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ও জীবীকার তাগিদে তাকে এখন রাজনীতির মাঠ তাকে আর দেখা যায় না।

আক্ষেপ করে সাবেক এ নেতা বলেন, সুসময়ে নেতারা কর্মীদের অবদান ভুলে যায়। দিনের পর দিন দলের জন্য শ্রম দিলেও দুঃসময়ে কেউ খোঁজ নেয় না। রাজনীতির প্রেক্ষাপটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই রাজনীতির মাঠ ছেড়ে এখন গাভী পালন করছি বলেন, তিনি।

তবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে থাকলেও মনের গহীনে আজও জিয়ার আদর্শ লালন করেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতেই কয়েকটি বিদেশি গাভি লালন-পালন করছে। ৩’কন্যা সন্তানের জনক দলীয় সভা সমাবেশ, মিছিল মিটিং ও রাজপথের এক সময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের সিংহ পুরুষের সংসার চলে এখন গাভীর দুধ বিক্রির টাকায়।

একসময়ের ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল মিটিংয়ের পরিচিত মুখ এখন গোয়ালঘরেই ব্যস্ত সময় কাটছে। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মতো তিনিও এখন অনেকটা নীরব। তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীরাই দলের প্রাণ। একে একে এসব নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হলে সাংগঠনিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, দলের দুর্দিনের সকল কর্মীর মূল্যায়ন করা হবে।