শরীয়তপুরে ডামুড্যা উপজেলা সদরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সকালে বিদ্যালয়ের ফটকে কয়েকজন তরুণ তাঁকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেয় এবং মারধর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে দেওয়া হয়। আহত ওই শিক্ষককে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, ডামুড্যা উপজেলা সদরে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় অবস্থিত। প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুজিৎ কর্মকার ২০১৩ সালে সেখানে নিয়োগ পান। দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেইসব বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদ্যালয়ে যাননি তিনি। বিভিন্নভাবে ছুটি কাটিয়ে যাচ্ছিলেন।
গতকাল ৮ জুন ,২৬ সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে যান। অটোরিকশা থেকে নামার পর কয়েকজন তরুণ তাঁকে মারধর করতে থাকে। আবার কয়েকজন তরুণ তাঁকে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেয়। তখন আরও কয়েকজন তরুণ তাঁকে অটোরিকশার ভেতরে মারধর করে। ওই অটোরিকশায় সুজিৎ কর্মকার প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। নিরাপত্তার অভাব বোধ করে সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আসেন। পরে স্বজনেরা তাঁকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ডামুড্যার একটি মহল আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন ওই পক্ষকে মদদ দিতেন। নিরাপত্তার অভাবে আমি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে যেতে পারছিলাম না। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়ে আজ বিদ্যালয়ে যাই। ওই চক্রের সদস্যরা বিদ্যালয়ের গেটে আমাকে বেদম মা*র*ধ*র করেছে। আমি চিকিৎসা শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেব।’
শরিয়তপুর জেলা প্রতিনিধি 

















