ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল! নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাষা কর্মশালা ও মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন। নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন। প্রায় ২০ কোটি টাকার স্থাপনার হদিস নেই, রামেবি ক্যাম্পাসে লুটপাটের অভিযোগ। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট’র উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু শিবির ও মেডিক্যাল ক্যাম্প সম্পন্ন। আখাউড়ায় বিশেষ অভিযানে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার একটি স্বপ্নের নাম মর্ম মাধুর্য বসু (তাথৈ) শুভ জন্মদিন, আমাদের প্রাণের আলো। হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন।

“শেষ কবে মাংস খেয়েছি, মনে নেই”— ক্যান্সার আক্রান্ত জাহানারার চোখে আনন্দের জল।

বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের জাহানারা বেগম। ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত এই নারী দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। সংসারের অভাব-অনটন আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আজ প্রায় নিঃস্ব। এমন অবস্থায় শেষ কবে মাংস খেয়েছেন, সেই স্মৃতিও মনে করতে পারেন না তিনি।

জাহানারা বেগমের স্বামী জামাল হাওলাদার পেশায় একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। কিন্তু স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারের সহায়-সম্বল। এখন সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকার ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

অভাব এতটাই প্রকট যে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের দুপুরের খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। নদীতে মাছ ধরলেও অধিকাংশ মাছ বিক্রি করে দিতে হয় সংসার ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে। ফলে নিজেদের জন্য মাছ কিংবা মাংস খাওয়া যেন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

শেষ কবে মাংস খেয়েছেন— এমন প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ নীরব হয়ে যান জাহানারা বেগম। এরপর চোখ ভিজে ওঠে তার। তিনি বলেন, “মনে করতে পারি না বাবা, কবে মাংস খেয়েছি।”

সম্প্রতি ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে দেওয়া দুই কেজি কোরবানির মাংস পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। মাংস হাতে পেয়েই দ্রুত রান্নার আয়োজন শুরু করেন। রান্না শেষ হয়েছে কি না, তা জানতে ছোট ছেলে বারবার মায়ের কাছে ছুটে আসে। ভাত তখনও রান্না হয়নি। ছেলের আগ্রহ দেখে মুড়ির সঙ্গে কিছু মাংস খেতে দেন তিনি।

পাশে বসে সন্তানের তৃপ্তি নিয়ে মাংস খাওয়া দেখছিলেন জাহানারা বেগম। তার চোখে ছিল অপার মমতা, মুখে প্রশান্তির ছাপ। সন্তানের মুখে এমন আনন্দ দেখে কিছুক্ষণের জন্য যেন ভুলে গিয়েছিলেন নিজের অসুস্থতা, অভাব আর জীবনের সব কষ্টের কথা।

দীর্ঘদিনের কষ্ট আর বঞ্চনার মাঝেও সন্তানের মুখের হাসিই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কোরবানির সেই মাংস তাই শুধু একটি খাবার নয়, জাহানারা বেগমের পরিবারের জন্য ছিল ঈদের আনন্দ, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য উপহার।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁধে দুর্নীতির ভুত: চার মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের টেন্ডারের ফাইল!

“শেষ কবে মাংস খেয়েছি, মনে নেই”— ক্যান্সার আক্রান্ত জাহানারার চোখে আনন্দের জল।

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের জাহানারা বেগম। ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত এই নারী দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। সংসারের অভাব-অনটন আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আজ প্রায় নিঃস্ব। এমন অবস্থায় শেষ কবে মাংস খেয়েছেন, সেই স্মৃতিও মনে করতে পারেন না তিনি।

জাহানারা বেগমের স্বামী জামাল হাওলাদার পেশায় একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। কিন্তু স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারের সহায়-সম্বল। এখন সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকার ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

অভাব এতটাই প্রকট যে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের দুপুরের খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। নদীতে মাছ ধরলেও অধিকাংশ মাছ বিক্রি করে দিতে হয় সংসার ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে। ফলে নিজেদের জন্য মাছ কিংবা মাংস খাওয়া যেন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

শেষ কবে মাংস খেয়েছেন— এমন প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ নীরব হয়ে যান জাহানারা বেগম। এরপর চোখ ভিজে ওঠে তার। তিনি বলেন, “মনে করতে পারি না বাবা, কবে মাংস খেয়েছি।”

সম্প্রতি ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে দেওয়া দুই কেজি কোরবানির মাংস পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। মাংস হাতে পেয়েই দ্রুত রান্নার আয়োজন শুরু করেন। রান্না শেষ হয়েছে কি না, তা জানতে ছোট ছেলে বারবার মায়ের কাছে ছুটে আসে। ভাত তখনও রান্না হয়নি। ছেলের আগ্রহ দেখে মুড়ির সঙ্গে কিছু মাংস খেতে দেন তিনি।

পাশে বসে সন্তানের তৃপ্তি নিয়ে মাংস খাওয়া দেখছিলেন জাহানারা বেগম। তার চোখে ছিল অপার মমতা, মুখে প্রশান্তির ছাপ। সন্তানের মুখে এমন আনন্দ দেখে কিছুক্ষণের জন্য যেন ভুলে গিয়েছিলেন নিজের অসুস্থতা, অভাব আর জীবনের সব কষ্টের কথা।

দীর্ঘদিনের কষ্ট আর বঞ্চনার মাঝেও সন্তানের মুখের হাসিই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কোরবানির সেই মাংস তাই শুধু একটি খাবার নয়, জাহানারা বেগমের পরিবারের জন্য ছিল ঈদের আনন্দ, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য উপহার।