ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে! কালিগঞ্জ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকর্মীর হামলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আহত একজন শিক্ষকের হাতজোড়, একদল শিক্ষার্থীর কান্না—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নির্মম প্রশ্ন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে মহা মিছিল, ধর্মতলা উত্তাল।  ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হলো পবিত্র উল্টো রথযাত্রা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। রাউজান ফকিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উল্টো রথযাত্রা সম্পন্ন। রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি বনাম জবাবদিহি: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮, ৫০, ৫১, ৫২ ও ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি সাংবিধানিক বিশ্লেষণ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বাংলাদেশের সাংবিধানিক উত্তরণ: ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

মরুভূমির কান্না, ট্যাঙ্গোর উল্লাস।

 

রাতের আকাশে যেন তারারাও অপেক্ষা করছিল। একদিকে ফুটবলের চিরচেনা পরাশক্তি আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে সাহসী মিশর। কেউ বলছিল, এটি হবে একতরফা লড়াই। কিন্তু ফুটবল কখনও কাগজের হিসাব মানে না।

খেলা শুরু হতেই মিশর যেন মরুভূমির ঝড় হয়ে আছড়ে পড়ল। প্রতিটি পাসে ছিল আত্মবিশ্বাস, প্রতিটি ট্যাকলে ছিল বেঁচে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। প্রথম গোলটি হতেই গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ল বিস্ময়। মনে হচ্ছিল, ইতিহাস যেন নতুন করে লেখা শুরু করেছে।

কিন্তু ইতিহাসকে এত সহজে বদলাতে দেয় না আর্জেন্টিনা।

নীল-সাদা জার্সিধারীরা ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পেল। বল যেন তাদের পায়ে গান গাইতে লাগল। একের পর এক আক্রমণে মিশরের রক্ষণ কেঁপে উঠল। সমতার গোলটি হতেই স্টেডিয়াম গর্জে উঠল বজ্রধ্বনির মতো।

তবু মিশর হার মানেনি। তারা আবারও এগিয়ে গেল। মরুভূমির সন্তানরা যেন বিশ্বকে বলতে চাইল—’আমরাও স্বপ্ন দেখতে জানি।’

সময় তখন শেষের দিকে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের চোখে উদ্বেগ, আর মিশরের সমর্থকদের চোখে অলৌকিক জয়ের স্বপ্ন। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা যেন নিজের শতবর্ষের ফুটবল ঐতিহ্যকে জাগিয়ে তুলল। দ্রুত আক্রমণ, নিখুঁত পাস, আর এক দুর্দান্ত সমাপ্তি—স্কোরলাইন আবার সমান।

এরপর অতিরিক্ত সময় যেন ছিল হৃদস্পন্দনের পরীক্ষা। প্রতিটি মিনিট ছিল এক একটি যুগের সমান দীর্ঘ। মিশরের খেলোয়াড়দের ক্লান্ত শরীরেও ছিল অদম্য লড়াই, আর আর্জেন্টিনার চোখে ছিল জয়ের অগ্নিশিখা।

হঠাৎই এলো সেই ক্ষণ।

একটি নিখুঁত আক্রমণ, কয়েক সেকেন্ডের জাদুকরী সমন্বয়, তারপর জালের ভেতর বল। পুরো স্টেডিয়াম যেন বিস্ফোরিত হলো আনন্দে। আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল। শেষ বাঁশি বাজতেই নীল-সাদা সমুদ্র আনন্দে ভেসে উঠল।

কিন্তু সেদিনের সত্যিকারের নায়ক শুধু বিজয়ী দল ছিল না।

মিশরের খেলোয়াড়রা হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিল। কারও চোখে জল, কারও মুখে নীরবতা। তারা হারলেও মাথা নত করেনি। কারণ তারা বিশ্বকে দেখিয়েছিল—সাহস কখনও স্কোরবোর্ডে মাপা যায় না।

আর্জেন্টিনা জিতেছিল ম্যাচ, কিন্তু মিশর জয় করেছিল কোটি মানুষের শ্রদ্ধা।

ফুটবল এমনই এক খেলা—এখানে কেউ ট্রফি জেতে, কেউ মানুষের হৃদয়। আর কখনও কখনও, পরাজিতের চোখের জলও বিজয়ীর হাসির মতোই অমর হয়ে থাকে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওর ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নিল আজীবনের শোকে। যে বাবা পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই বাঁচিয়ে গেলেন মেয়েকে!

মরুভূমির কান্না, ট্যাঙ্গোর উল্লাস।

আপডেট সময় : ১২:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

 

রাতের আকাশে যেন তারারাও অপেক্ষা করছিল। একদিকে ফুটবলের চিরচেনা পরাশক্তি আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে সাহসী মিশর। কেউ বলছিল, এটি হবে একতরফা লড়াই। কিন্তু ফুটবল কখনও কাগজের হিসাব মানে না।

খেলা শুরু হতেই মিশর যেন মরুভূমির ঝড় হয়ে আছড়ে পড়ল। প্রতিটি পাসে ছিল আত্মবিশ্বাস, প্রতিটি ট্যাকলে ছিল বেঁচে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। প্রথম গোলটি হতেই গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ল বিস্ময়। মনে হচ্ছিল, ইতিহাস যেন নতুন করে লেখা শুরু করেছে।

কিন্তু ইতিহাসকে এত সহজে বদলাতে দেয় না আর্জেন্টিনা।

নীল-সাদা জার্সিধারীরা ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পেল। বল যেন তাদের পায়ে গান গাইতে লাগল। একের পর এক আক্রমণে মিশরের রক্ষণ কেঁপে উঠল। সমতার গোলটি হতেই স্টেডিয়াম গর্জে উঠল বজ্রধ্বনির মতো।

তবু মিশর হার মানেনি। তারা আবারও এগিয়ে গেল। মরুভূমির সন্তানরা যেন বিশ্বকে বলতে চাইল—’আমরাও স্বপ্ন দেখতে জানি।’

সময় তখন শেষের দিকে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের চোখে উদ্বেগ, আর মিশরের সমর্থকদের চোখে অলৌকিক জয়ের স্বপ্ন। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা যেন নিজের শতবর্ষের ফুটবল ঐতিহ্যকে জাগিয়ে তুলল। দ্রুত আক্রমণ, নিখুঁত পাস, আর এক দুর্দান্ত সমাপ্তি—স্কোরলাইন আবার সমান।

এরপর অতিরিক্ত সময় যেন ছিল হৃদস্পন্দনের পরীক্ষা। প্রতিটি মিনিট ছিল এক একটি যুগের সমান দীর্ঘ। মিশরের খেলোয়াড়দের ক্লান্ত শরীরেও ছিল অদম্য লড়াই, আর আর্জেন্টিনার চোখে ছিল জয়ের অগ্নিশিখা।

হঠাৎই এলো সেই ক্ষণ।

একটি নিখুঁত আক্রমণ, কয়েক সেকেন্ডের জাদুকরী সমন্বয়, তারপর জালের ভেতর বল। পুরো স্টেডিয়াম যেন বিস্ফোরিত হলো আনন্দে। আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল। শেষ বাঁশি বাজতেই নীল-সাদা সমুদ্র আনন্দে ভেসে উঠল।

কিন্তু সেদিনের সত্যিকারের নায়ক শুধু বিজয়ী দল ছিল না।

মিশরের খেলোয়াড়রা হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিল। কারও চোখে জল, কারও মুখে নীরবতা। তারা হারলেও মাথা নত করেনি। কারণ তারা বিশ্বকে দেখিয়েছিল—সাহস কখনও স্কোরবোর্ডে মাপা যায় না।

আর্জেন্টিনা জিতেছিল ম্যাচ, কিন্তু মিশর জয় করেছিল কোটি মানুষের শ্রদ্ধা।

ফুটবল এমনই এক খেলা—এখানে কেউ ট্রফি জেতে, কেউ মানুষের হৃদয়। আর কখনও কখনও, পরাজিতের চোখের জলও বিজয়ীর হাসির মতোই অমর হয়ে থাকে।