দক্ষিণবঙ্গ সফরে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে মাদারীপুরের টেকেরহাটে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ১৩ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের টেকেরহাট গোলচত্বরে প্রধানমন্ত্রীর বহর পৌঁছালে হাজারো মানুষ ফেস্টুন, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
টেকেরহাট থেকে মোস্তফাপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী, পুরুষ, তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের শুভেচ্ছা ও প্রত্যাশার কথা জানান।
যোগাযোগ উন্নয়নে ভাঙ্গা–কুয়াকাটা সিক্স লেনের দাবি
দক্ষিণবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ককে সিক্স লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত শুরু করা। স্থানীয়রা মনে করেন, এই সড়ক আধুনিকায়ন করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
তাদের প্রত্যাশা, দক্ষিণবঙ্গের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ভাঙ্গা–কুয়াকাটা সিক্স লেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আধুনিক সড়ক যোগাযোগ কৃষি, শিল্প, বন্দর ও পর্যটনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষকদের সরকারিকরণের দাবি
এ সময় টেকেরহাট বন্দরে অবস্থিত শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ-এর শিক্ষকবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। তারা প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ফেস্টুন নিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত সরকারিকরণের দাবি তুলে ধরেন।
শিক্ষকরা জানান, নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই এর সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিকরণের বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানান তারা।
উপস্থিত ছিলেন নেতৃবৃন্দ
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গৌরাঙ্গ বসু, যুবনেতা খায়ের হাওলাদার, যুবনেতা মেরাজ ফকিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ।
টেকেরহাটের এই জনসমাগম শুধু একটি রাজনৈতিক সফরকে ঘিরে মানুষের উপস্থিতি নয়; এটি দক্ষিণবঙ্গের মানুষের উন্নয়ন, শিক্ষা ও যোগাযোগের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশারও প্রতিচ্ছবি।
জনগণের ভালোবাসার পাশাপাশি তাদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি সফরের প্রকৃত সার্থকতা প্রতিফলিত হয়। দক্ষিণবঙ্গের মানুষ এখন প্রত্যাশা করছে— উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা বিস্তার এবং জনকল্যাণমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















