ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
মরুভূমির কান্না, ট্যাঙ্গোর উল্লাস। ভোলায় চাঁদা না দেওয়ায় নারী-পুরুষের গলায় জুতার মালা, গ্রেপ্তার ৪। শ্রীমঙ্গলে গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল করে পর্নোগ্রাফি তৈরি:মূলহোতা শাহিন র‍্যাবের খাঁচায়। মাসদাইরে আলফালা সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ। শেষ বাঁশির পরে। সনাতন ধর্মের বিশ্বজনীনতা ও মতুয়া দর্শন: শাস্ত্র, ইতিহাস ও দর্শনের আলোকে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা। হারানো শৈশব ও বর্তমান জীবনের সংকট: আত্মান্বেষণ, উপলব্ধি ও উত্তরণের পথ। বিআরটিসিতে দুর্নীতির অভিযোগ: রাজনৈতিক প্রভাবে বারবার পার পেয়ে জান , নায়েব আলীর বিরুদ্ধে পুনঃতদন্তের দাবি। জনগণের আস্থা ফেরাতে পুলিশকে আরও জনবান্ধব করতে হবে : ইয়ারুল ইসলাম। ভালুকা পৌরসভায় উন্নয়নে গতি, বাড়ছে নাগরিক সেবা।

শেষ বাঁশির পরে।

 

শেষ বাঁশিটি বাজতেই যেন পুরো স্টেডিয়াম নিঃশব্দ হয়ে গেল।সবুজ-হলুদ জার্সি পরা হাজারো সমর্থকের চোখে তখন অশ্রু। কেউ মাথা নিচু করে বসে আছে, কেউ দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে। ছোট্ট এক শিশু বাবার হাত ধরে কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “বাবা… ব্রাজিল কি আর কখনও জিতবে না?”

বাবা ছেলের মাথায় হাত রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন, “বাবা, যে দল হারতে জানে না, সে জিততেও শেখে না।”

মাঠের এক পাশে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা নীরবে দাঁড়িয়ে। কারও চোখে জল, কারও মুখে গভীর হতাশা। মনে হচ্ছিল তারা শুধু একটি ম্যাচ নয়, কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের ভারও বয়ে বেড়াচ্ছে।

অন্য পাশে নরওয়ের খেলোয়াড়দের উল্লাস। কিন্তু সেই উল্লাসে বিদ্রূপ নেই, অহংকার নেই। তারা জানে, আজকের এই জয় হঠাৎ করে আসেনি। বছরের পর বছর ভোরের অনুশীলন, অসংখ্য ব্যর্থতা, অগণিত ত্যাগ আর অটল বিশ্বাসের ফল আজ এই বিজয়।

নরওয়ের এক খেলোয়াড় এগিয়ে এসে ব্রাজিলের এক ফুটবলারের কাঁধে হাত রাখল। কোনো কথা হলো না। তবুও সেই নীরব স্পর্শ যেন বলল, “আজ আমি জিতেছি, কাল হয়তো তুমি জিতবে। কিন্তু আমরা দুজনেই ফুটবলের সন্তান।”

গ্যালারির শেষ সারিতে বসে থাকা এক বৃদ্ধ সমর্থকের চোখ বেয়ে নীরবে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি বহু বিশ্বকাপ দেখেছেন, অসংখ্য জয়-পরাজয় দেখেছেন। তবুও আজ তাঁর চোখ ভিজে উঠল। কারণ তিনি বুঝেছিলেন, ট্রফি একদিন ধুলোয় ঢাকা পড়ে, কিন্তু একটি সৎ লড়াই মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে।

স্টেডিয়ামের আলো একে একে নিভে গেল। মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করল। কিন্তু একটি ছোট্ট ছেলে তখনও গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের পতাকাটি বুকের সঙ্গে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে।

তার চোখে জল, কিন্তু ঠোঁটে একটিই বাক্য—“আমি আবারও ব্রাজিলকেই ভালোবাসব।” হয়তো সেই ভালোবাসাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় জয়।

কারণ সমর্থক শুধু জয়ের দিনে পাশে থাকে না; পরাজয়ের রাতেও যে পতাকাটি বুকের কাছে আগলে রাখে, সত্যিকারের ভালোবাসা তারই।

আর নরওয়ে?

আজ তারা শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি। তারা জিতেছে কোটি মানুষের শ্রদ্ধা। তারা প্রমাণ করেছে—নাম নয়, ইতিহাস নয়, মাঠে জয়ী হয় সেই দল, যারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে না।

সেদিন রাতের আকাশে দুটি পতাকা উড়ছিল—একটি বিজয়ের, আরেকটি অশ্রুসিক্ত ভালোবাসার। বাতাস দুটোকেই সমানভাবে বুকে ধারণ করেছিল।

কারণ ফুটবল কখনও শুধু গোলের হিসাব নয়।ফুটবল হলো মানুষের চোখের জল, বুকভরা আশা, পরাজয়ের মধ্যেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস, আর প্রতিপক্ষকে সম্মান করার অনন্ত শিক্ষা।

শেষ বাঁশি শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করে।কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসার গল্প—সেটি কখনও শেষ হয় না।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

মরুভূমির কান্না, ট্যাঙ্গোর উল্লাস।

শেষ বাঁশির পরে।

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

শেষ বাঁশিটি বাজতেই যেন পুরো স্টেডিয়াম নিঃশব্দ হয়ে গেল।সবুজ-হলুদ জার্সি পরা হাজারো সমর্থকের চোখে তখন অশ্রু। কেউ মাথা নিচু করে বসে আছে, কেউ দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে। ছোট্ট এক শিশু বাবার হাত ধরে কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “বাবা… ব্রাজিল কি আর কখনও জিতবে না?”

বাবা ছেলের মাথায় হাত রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন, “বাবা, যে দল হারতে জানে না, সে জিততেও শেখে না।”

মাঠের এক পাশে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা নীরবে দাঁড়িয়ে। কারও চোখে জল, কারও মুখে গভীর হতাশা। মনে হচ্ছিল তারা শুধু একটি ম্যাচ নয়, কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের ভারও বয়ে বেড়াচ্ছে।

অন্য পাশে নরওয়ের খেলোয়াড়দের উল্লাস। কিন্তু সেই উল্লাসে বিদ্রূপ নেই, অহংকার নেই। তারা জানে, আজকের এই জয় হঠাৎ করে আসেনি। বছরের পর বছর ভোরের অনুশীলন, অসংখ্য ব্যর্থতা, অগণিত ত্যাগ আর অটল বিশ্বাসের ফল আজ এই বিজয়।

নরওয়ের এক খেলোয়াড় এগিয়ে এসে ব্রাজিলের এক ফুটবলারের কাঁধে হাত রাখল। কোনো কথা হলো না। তবুও সেই নীরব স্পর্শ যেন বলল, “আজ আমি জিতেছি, কাল হয়তো তুমি জিতবে। কিন্তু আমরা দুজনেই ফুটবলের সন্তান।”

গ্যালারির শেষ সারিতে বসে থাকা এক বৃদ্ধ সমর্থকের চোখ বেয়ে নীরবে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি বহু বিশ্বকাপ দেখেছেন, অসংখ্য জয়-পরাজয় দেখেছেন। তবুও আজ তাঁর চোখ ভিজে উঠল। কারণ তিনি বুঝেছিলেন, ট্রফি একদিন ধুলোয় ঢাকা পড়ে, কিন্তু একটি সৎ লড়াই মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে।

স্টেডিয়ামের আলো একে একে নিভে গেল। মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করল। কিন্তু একটি ছোট্ট ছেলে তখনও গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের পতাকাটি বুকের সঙ্গে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে।

তার চোখে জল, কিন্তু ঠোঁটে একটিই বাক্য—“আমি আবারও ব্রাজিলকেই ভালোবাসব।” হয়তো সেই ভালোবাসাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় জয়।

কারণ সমর্থক শুধু জয়ের দিনে পাশে থাকে না; পরাজয়ের রাতেও যে পতাকাটি বুকের কাছে আগলে রাখে, সত্যিকারের ভালোবাসা তারই।

আর নরওয়ে?

আজ তারা শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি। তারা জিতেছে কোটি মানুষের শ্রদ্ধা। তারা প্রমাণ করেছে—নাম নয়, ইতিহাস নয়, মাঠে জয়ী হয় সেই দল, যারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে না।

সেদিন রাতের আকাশে দুটি পতাকা উড়ছিল—একটি বিজয়ের, আরেকটি অশ্রুসিক্ত ভালোবাসার। বাতাস দুটোকেই সমানভাবে বুকে ধারণ করেছিল।

কারণ ফুটবল কখনও শুধু গোলের হিসাব নয়।ফুটবল হলো মানুষের চোখের জল, বুকভরা আশা, পরাজয়ের মধ্যেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস, আর প্রতিপক্ষকে সম্মান করার অনন্ত শিক্ষা।

শেষ বাঁশি শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করে।কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসার গল্প—সেটি কখনও শেষ হয় না।