ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
গণপূর্ত অধিদপ্তরে ই/এম প্রকৌশলী পদে পদায়নের লটারি নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন যুবলীগ নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান: এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন চারশত কোটির আজিমপুর প্রকল্প কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের সাবেক বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট প্রতিমন্ত্রী গণপূর্তের শরিফ আহমেদের আস্থাভাজন রাশেদ আহমেদ এখন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আজিমপুর ডিভিশনে নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু

যুবলীগ নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান: এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন চারশত কোটির আজিমপুর প্রকল্প

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

যুবলীগ নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান: এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন চারশত কোটির আজিমপুর প্রকল্প

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি : রাবেয়া খাতুন মুক্তা

প্রকৌশলীক অলিন্দে হাওয়ার গতি বদলায়, স্বৈরাচারের পতনে রথী-মহারথীরা আত্মগোপনে চলে যায়; কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের বারো ভূতের জাল-জালিয়াতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অন্যতম অঘোষিত মাফিয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ আহসান ওরফে রাশেদুজ্জামানের বেপরোয়া রাম-রাজত্ব যেনো যুগেযুগে !

 

বৈপ্লবিক গণঅভ্যুত্থান-উত্তর প্রেক্ষাপটে ওএসডি (OSD) হওয়া, কিংবা ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের হাতে নিজ কার্যালয়ে টানা ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থেকে শেষপর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মুক্ত হওয়ার মতো নজিরবিহীন গণরোষের মুখে পড়েও থামেনি এই প্রকৌশলীর লুটপাট হরিলুটে মহাযজ্ঞ। বর্তমানে নব্য রূপ ধরে চারশত কোটি টাকার আজিমপুর গণপূর্ত প্রকল্পের রাজকীয় ‘প্রাইজ পোস্টিং’ বাগিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় সংস্থাপনকে সন্তুষ্ট করে গণপূর্ত ফোকলা করতে আদা জল খেতে ব্যস্ত এই প্রকৌশলী !

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের একান্ত আস্থাভাজন এই প্রকৌশলী প্রথমে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতির মহাউৎসব পরিচালনা করেন। ময়মনসিংহে হরিলুট শেষে তিনি বাগিয়ে নেন অতি সংবেদনশীল মিরপুর গণপূর্ত বিভাগ। সেখানে এসে তিনি হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারী শাসনের অন্যতম দোসর, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ মাইনুল হাসান নিখিলের সরাসরি ব্যবসায়িক পার্টনার! মিরপুরে তথাকথিত ‘বিকাশ বাহিনী’কে ঢাল হিসেবে সামনে রেখে সাধারণ ঠিকাদারদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রাশেদ আহসান গড়ে তোলেন এক অভেদ্য টেন্ডার সিন্ডিকেট।

 

জানা যায়, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসন কোয়ার্টার প্রকল্পের মেয়াদ জুন/২০২৫ এ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই নিয়ম-নীতি ও নথিপত্র সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আনুমানিক শত কোটি টাকার অগ্রিম বিল বাবদ সরকারি অর্থ প্রদান করেছেন রাশেদ আহসান! ভুয়ো কাজের বিপরীতে প্রায় ৫ কোটি টাকার গোপন কমিশনের বিনিময়ে এই অলৌকিক অর্থ ছাড়ের প্রমাণ মেলায় খোদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গঠন করা হয়েছে এক হাই-ভোলেটেজ তদন্ত কমিটি।

 

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, সৎ ঠিকাদাররা বছরের পর বছর ঘুরে একটা কাজ পায় না, অথচ কোটি কোটি টাকা কমিশন খেয়ে এক নিমিষে শতকোটি টাকার ভুয়া অগ্রিম বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে।

শুধু অর্থ আত্মসাৎ কিংবা টেন্ডার বাণিজ্যের রামরাজত্বই নয়, দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও অর্থ পাচারের মতো রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকার গুরুতর তথ্য মিলেছে রাশেদ আহসানের বিরুদ্ধে। গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গত অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে বারবার স্ত্রীর ডাক্তার দেখানোর ভুয়া এপয়েন্টমেন্ট লেটার বানিয়ে ভারত সফর করেছেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল আত্মগোপনে থাকা ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসরদের কাছে মিরপুর আবাসন প্রকল্প ও প্রকৌশলী সেক্টর থেকে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করা এবং গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের রূপরেখা আঁকা!

 

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে, রাশেদ আহসানের সাথে গণপূর্তের আরও দুই প্রকৌশলী প্রায় একই সময়ে ছুটির অনুমোদন নিয়ে একই ষড়যন্ত্রমূলক গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

বিগত ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপনকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, পছন্দের ঠিকাদার ও নিখিলের রাজনৈতিক ক্যাডারদের অনৈতিক সুবিধা দিতে এলটিএম (LTM) পদ্ধতির পরিবর্তে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করেন রাশেদ। দরপত্র আইডি (যেমন: ৯৯৫৩০০, ৯৯৪২৭৭, ৯৯৪০২০, ৯৯২৩৫২, ৯৯২৩৮৭, ৯৮১৬৬৭, ৯৫৫২১৬ সহ অসংখ্য কাজ) থেকে ১০% কমিশন নিমিষেই পকেটে পুরে তিনি মিরপুর গণপূর্তকে বানিয়েছিলেন স্বৈরাচারের পুর্নবাসন কেন্দ্র। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ছাত্র- বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে কোটি কোটি টাকা নগদ অর্থ যোগান দিয়েছিলেন নিখিল-রাশেদ সিন্ডিকেট।

 

তবে কেবল টেন্ডার বাণিজ্যের ক্যাশেই সীমাবদ্ধ নয় রাশেদ আহসানের সাম্রাজ্য। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উন্মোচিত হচ্ছে তার ও তার পরিবারের নামে-বেনামে অর্জিত সম্পদের পাহাড়! রাজধানীর অভিজাত উত্তরা ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল একাধিক ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও পূর্বাচল নতুন শহরে একাধিক প্লট এবং বাণিজ্যিক জায়গা, সাভার, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে শত শত শতাংশ জমি ও ঢাকা ঘেষা জমিতে বিলাসবহুল রিসোর্ট বা ফার্মহাউস বানানোর দালিলিক প্রমাণ মিলেছে। এছাড়াও দুবাই ও কানাডায় হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করে সেকেন্ড হোম সুবিধা গ্রহণ, স্ত্রী, ভাই ও নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার এফডিআর (FDR) এবং ভল্টে বিপুল নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার গচ্ছিত রাখার সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন দুদকের গোয়েন্দা নজরদারিতে।

 

এ যেনো শকুনের চোখে গণপূর্তের ভবিষ্যৎ…..

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্ত অধিদপ্তরে ই/এম প্রকৌশলী পদে পদায়নের লটারি নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

যুবলীগ নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান: এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন চারশত কোটির আজিমপুর প্রকল্প

আপডেট সময় : ১১:৪৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

যুবলীগ নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান: এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন চারশত কোটির আজিমপুর প্রকল্প

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি : রাবেয়া খাতুন মুক্তা

প্রকৌশলীক অলিন্দে হাওয়ার গতি বদলায়, স্বৈরাচারের পতনে রথী-মহারথীরা আত্মগোপনে চলে যায়; কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের বারো ভূতের জাল-জালিয়াতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অন্যতম অঘোষিত মাফিয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ আহসান ওরফে রাশেদুজ্জামানের বেপরোয়া রাম-রাজত্ব যেনো যুগেযুগে !

 

বৈপ্লবিক গণঅভ্যুত্থান-উত্তর প্রেক্ষাপটে ওএসডি (OSD) হওয়া, কিংবা ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের হাতে নিজ কার্যালয়ে টানা ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থেকে শেষপর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মুক্ত হওয়ার মতো নজিরবিহীন গণরোষের মুখে পড়েও থামেনি এই প্রকৌশলীর লুটপাট হরিলুটে মহাযজ্ঞ। বর্তমানে নব্য রূপ ধরে চারশত কোটি টাকার আজিমপুর গণপূর্ত প্রকল্পের রাজকীয় ‘প্রাইজ পোস্টিং’ বাগিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় সংস্থাপনকে সন্তুষ্ট করে গণপূর্ত ফোকলা করতে আদা জল খেতে ব্যস্ত এই প্রকৌশলী !

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের একান্ত আস্থাভাজন এই প্রকৌশলী প্রথমে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতির মহাউৎসব পরিচালনা করেন। ময়মনসিংহে হরিলুট শেষে তিনি বাগিয়ে নেন অতি সংবেদনশীল মিরপুর গণপূর্ত বিভাগ। সেখানে এসে তিনি হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারী শাসনের অন্যতম দোসর, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ মাইনুল হাসান নিখিলের সরাসরি ব্যবসায়িক পার্টনার! মিরপুরে তথাকথিত ‘বিকাশ বাহিনী’কে ঢাল হিসেবে সামনে রেখে সাধারণ ঠিকাদারদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রাশেদ আহসান গড়ে তোলেন এক অভেদ্য টেন্ডার সিন্ডিকেট।

 

জানা যায়, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসন কোয়ার্টার প্রকল্পের মেয়াদ জুন/২০২৫ এ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই নিয়ম-নীতি ও নথিপত্র সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আনুমানিক শত কোটি টাকার অগ্রিম বিল বাবদ সরকারি অর্থ প্রদান করেছেন রাশেদ আহসান! ভুয়ো কাজের বিপরীতে প্রায় ৫ কোটি টাকার গোপন কমিশনের বিনিময়ে এই অলৌকিক অর্থ ছাড়ের প্রমাণ মেলায় খোদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গঠন করা হয়েছে এক হাই-ভোলেটেজ তদন্ত কমিটি।

 

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, সৎ ঠিকাদাররা বছরের পর বছর ঘুরে একটা কাজ পায় না, অথচ কোটি কোটি টাকা কমিশন খেয়ে এক নিমিষে শতকোটি টাকার ভুয়া অগ্রিম বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে।

শুধু অর্থ আত্মসাৎ কিংবা টেন্ডার বাণিজ্যের রামরাজত্বই নয়, দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও অর্থ পাচারের মতো রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকার গুরুতর তথ্য মিলেছে রাশেদ আহসানের বিরুদ্ধে। গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গত অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে বারবার স্ত্রীর ডাক্তার দেখানোর ভুয়া এপয়েন্টমেন্ট লেটার বানিয়ে ভারত সফর করেছেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল আত্মগোপনে থাকা ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসরদের কাছে মিরপুর আবাসন প্রকল্প ও প্রকৌশলী সেক্টর থেকে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করা এবং গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের রূপরেখা আঁকা!

 

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে, রাশেদ আহসানের সাথে গণপূর্তের আরও দুই প্রকৌশলী প্রায় একই সময়ে ছুটির অনুমোদন নিয়ে একই ষড়যন্ত্রমূলক গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

বিগত ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপনকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, পছন্দের ঠিকাদার ও নিখিলের রাজনৈতিক ক্যাডারদের অনৈতিক সুবিধা দিতে এলটিএম (LTM) পদ্ধতির পরিবর্তে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করেন রাশেদ। দরপত্র আইডি (যেমন: ৯৯৫৩০০, ৯৯৪২৭৭, ৯৯৪০২০, ৯৯২৩৫২, ৯৯২৩৮৭, ৯৮১৬৬৭, ৯৫৫২১৬ সহ অসংখ্য কাজ) থেকে ১০% কমিশন নিমিষেই পকেটে পুরে তিনি মিরপুর গণপূর্তকে বানিয়েছিলেন স্বৈরাচারের পুর্নবাসন কেন্দ্র। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ছাত্র- বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে কোটি কোটি টাকা নগদ অর্থ যোগান দিয়েছিলেন নিখিল-রাশেদ সিন্ডিকেট।

 

তবে কেবল টেন্ডার বাণিজ্যের ক্যাশেই সীমাবদ্ধ নয় রাশেদ আহসানের সাম্রাজ্য। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উন্মোচিত হচ্ছে তার ও তার পরিবারের নামে-বেনামে অর্জিত সম্পদের পাহাড়! রাজধানীর অভিজাত উত্তরা ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল একাধিক ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও পূর্বাচল নতুন শহরে একাধিক প্লট এবং বাণিজ্যিক জায়গা, সাভার, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে শত শত শতাংশ জমি ও ঢাকা ঘেষা জমিতে বিলাসবহুল রিসোর্ট বা ফার্মহাউস বানানোর দালিলিক প্রমাণ মিলেছে। এছাড়াও দুবাই ও কানাডায় হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করে সেকেন্ড হোম সুবিধা গ্রহণ, স্ত্রী, ভাই ও নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার এফডিআর (FDR) এবং ভল্টে বিপুল নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার গচ্ছিত রাখার সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন দুদকের গোয়েন্দা নজরদারিতে।

 

এ যেনো শকুনের চোখে গণপূর্তের ভবিষ্যৎ…..