ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : ১জনের ফাঁসি ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা, ৪জন খালাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে। ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কচুয়ায় গাছ কাটতে গিয়ে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু, বিচার দাবি পরিবারের। নেত্রকোণায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ৭তম ‎মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা,দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ। শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হোক। হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি।

চট্টগ্রামে বহুতল ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দাবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • ৩৮৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

চট্টগ্রাম জেলার হালিশহর এলাকায় জেলা পুলিশ লাইনের নির্মাণাধীন নারী ব্যারাকে নির্মাণকাজ চলাকালীন চরম অবহেলার কারণে একজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকের নাম মোঃ ইব্রাহিম (৩৬), পিতা মোঃ আলমগীর। তার স্থায়ী ঠিকানা ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার আমিনাবাদ এলাকায়। জানা গেছে, ইব্রাহিম নারী ব্যারাকের ৬তলায় মাচাঁর ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন। এ সময় মাচাঁ ভেঙে নিচে পড়ে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সাহা জববাড়িয়া লাইসেন্স নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, কাজ শুরুর দীর্ঘদিন পরেও সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার, নিরাপদ মাচাঁ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনার পর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাকির সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেন এবং ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।

নির্মাণস্থলে নিরাপত্তার ঘাটতি এবং শ্রমিকের মৃত্যুর এই ঘটনা বাংলাদেশ শ্রম আইন ও নিরাপত্তা বিধির চরম লঙ্ঘন বলে মনে করেন শ্রম বিশেষজ্ঞগণ। নিহতের লাশ বর্তমানে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের লাশ ঘরে রাখা হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের জরুরি তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট মহল।

এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ।

চট্টগ্রামে বহুতল ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দাবি

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

চট্টগ্রাম জেলার হালিশহর এলাকায় জেলা পুলিশ লাইনের নির্মাণাধীন নারী ব্যারাকে নির্মাণকাজ চলাকালীন চরম অবহেলার কারণে একজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকের নাম মোঃ ইব্রাহিম (৩৬), পিতা মোঃ আলমগীর। তার স্থায়ী ঠিকানা ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার আমিনাবাদ এলাকায়। জানা গেছে, ইব্রাহিম নারী ব্যারাকের ৬তলায় মাচাঁর ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন। এ সময় মাচাঁ ভেঙে নিচে পড়ে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সাহা জববাড়িয়া লাইসেন্স নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, কাজ শুরুর দীর্ঘদিন পরেও সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার, নিরাপদ মাচাঁ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনার পর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাকির সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেন এবং ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।

নির্মাণস্থলে নিরাপত্তার ঘাটতি এবং শ্রমিকের মৃত্যুর এই ঘটনা বাংলাদেশ শ্রম আইন ও নিরাপত্তা বিধির চরম লঙ্ঘন বলে মনে করেন শ্রম বিশেষজ্ঞগণ। নিহতের লাশ বর্তমানে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের লাশ ঘরে রাখা হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের জরুরি তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট মহল।

এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।