লটারির নামে জালিয়াতি মন্ত্রী সচিব কে ভুল বুঝিয়ে তাদের লক্ষ্য পূরণ করিয়েছে রক্ষক যেখানে ভক্ষক
নিজস্ব প্রতিবেদন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের পোস্টিংয়ের ক্যাটাগরি নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত লটারি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ১১৬টি পোস্টের মধ্যে A ক্যাটাগরিতে ৪০টি, B ক্যাটাগরিতে ৩২টি, C ক্যাটাগরিতে ২০টি এবং D ক্যাটাগরিতে ২৪টি পোস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাটাগরিভিত্তিক বণ্টনে দেখা যায়, A ক্যাটাগরির ৪০টি পোস্টের মধ্যে A থেকে A-তে ২০ জন, B থেকে A-তে ১১ জন, C থেকে A-তে ৫ জন এবং D থেকে A-তে ৪ জন গেছেন। একইভাবে, B ক্যাটাগরির ৩২টি পোস্টে A থেকে B-তে ১০ জন, B থেকে B-তে ৮ জন, C থেকে B-তে ৬ জন এবং D থেকে B-তে ৮ জন গেছেন। C ক্যাটাগরির ২০টি পোস্টে A থেকে C-তে ৬ জন, B থেকে C-তে ৫ জন, C থেকে C-তে ৪ জন এবং D থেকে C-তে ৫ জন গেছেন। অন্যদিকে, D ক্যাটাগরির ২৪টি পোস্টে A থেকে D-তে ৪ জন, B থেকে D-তে ৮ জন, C থেকে D-তে ৫ জন এবং D থেকে D-তে ৭ জন গেছেন।
লটারির মাধ্যমে সবার ভাগ্য পরিবর্তন, ন্যায্য সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্যাটাগরি পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেকের ক্যাটাগরির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে প্রত্যাশিত পরিবর্তনের সুযোগ না পেয়ে অনেকেই আগের অবস্থাতেই বন্দি রয়ে গেছেন। অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে কিছু সুবিধাভোগীর সুবিধাজনক অবস্থান অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এতে লটারি প্রক্রিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদি লটারির উদ্দেশ্যই হয় সবার জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা, তাহলে কেবল লটারির আয়োজন করাই যথেষ্ট নয়; বরং এর ফলাফলেও ন্যায়সংগত পরিবর্তন ও সমান সুযোগের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় লটারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ক্যাটাগরি বণ্টনের ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানানো হচ্ছে। অনিয়ম বা কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত ন্যায়সংগত বণ্টন নিশ্চিত করতে ক্যাটাগরি নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আয়োজিত লটারি যেন কারও জন্য সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখার মাধ্যম এবং অন্যদের জন্য একই অবস্থানে বন্দি থাকার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়—এটাই সবার প্রত্যাশা।
সারাক্ষণ ডেস্ক 

















