ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : ১জনের ফাঁসি ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা, ৪জন খালাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে। ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কচুয়ায় গাছ কাটতে গিয়ে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু, বিচার দাবি পরিবারের। নেত্রকোণায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ৭তম ‎মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা,দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  ঘাঘটের ভাঙনে ঝুঁকিতে শহররক্ষা বাঁধ: পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ। শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হোক। হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আজ থেকে ভেঙে গেল। ইরানি বিমানকে আটকাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলা। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি।

পূর্ণ যৌবনা কুমার নদী এখন জৌলুস হারিয়ে মৃত প্রায় নদীতে রূপ নিয়েছে।

এক সময়ের প্রমত্তা, খরস্রোতা,পূর্ণ যৌবনের জৌলুস, দাম্ভিকতা কোনটাই অবশিষ্ট নেই, সব কিছুই আজ হারিয়ে ফেলেছে রাজৈরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদী। কালের পরিক্রমায় কুমার নদী আজ মৃত প্রায়।

 

একদিন এই নদীর নাম-ডাক ছিল যৌবনের উচ্ছাস, উদ্দিপনা ছিল, হুংকার আর গর্জনে হৃদপিন্ডে কাপনের সৃষ্টি হত পার্শ্ববর্তী দু-চার এলাকার লোকজনের। অথচ সেই নদী আজ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে প্রতিনিয়ত। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও মানুষের লাগামহীন অত্যাচারে কুমার নদী হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের পাতা থেকে।

ষাটের দশকে এই কুমার নদীর বুক চিরে বয়ে যেত বড়, বড় ষ্টীমার, লঞ্চ,চরমুগুরিয়া থেকে খুলনা পর্যন্ত। বড়, বড় ঘাসী নৌকা পাল তুলে ছুটে যেত ভাটিয়ালী গানের সুরের তালে,তালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের দুর- দুরন্তে যাতায়াতের এক মাত্র অবলম্বন ছিল এই কুমার নদী। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেই নদী আজ মুখ থুবরে পড়ে আছে জীবন্ত লাশ হয়ে।

এই নদীর হিংস্র স্রোতে ডুবে গেছে অজস্র ছোট বড় নৌকা, কেড়ে নিয়েছে শত সহস্র মায়ের নারী ছেড়া ধন, অনেক ধনীকে বানিয়েছে ফকির, আবার ফকিরকে বানিয়েছে ধনী।

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদী দুই পাড়ের বাসিন্দারা থাকতো আতংকে এই বুঝি তাদের শেষ সম্বল ভিটা বাড়ি টুকু কেড়ে নিয়ে যাবে নদী গর্ভে।

সেই নদী দিয়ে আজ লঞ্চ,স্টিমার চলা তো দুরের কথা মানুষের ব্যবহার করার মত পানিও থাকে না। এই নদী নিয়ে অনেক লেখা লেখি হয়েছে পত্র পত্রিকায় কিন্ত কোন কিছুতেই প্রশাসনের টনক নড়ছে না। নদীর রাজৈরের অংশ কচুরিপানায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ। ময়লা আবর্জনা ফেলার একমাত্র ডাস্টবিনই মনে হচ্ছে এই নদী। রাজৈর পৌরসভার ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে আজকের কুমার নদী।

 

নদীটি আগের মত সচল থাকলে নদীর দুই পাড়ের কৃষকদের সেচ ব্যবস্থায় অনেক সাশ্রয়ী হত। নদীর পানি ব্যবহারে জমিতে বেড়ে যেত বহুগুণ উর্বরতা শক্তি, ফসল আসতো দ্বিগুন। তাই নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রানের দাবী নদী সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের চোখের কালো চশমা খুলে অতি দ্রুত কুমার নদীটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। নয়তো একদিন এ নদীর অস্তিত্ব খুঁজতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দ্বারস্থ হতে হবে। এলাকাবাসীর আশা অচিরেই হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভেঙ্গে কুমার নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হবেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার: নীতিমালার ব্যাখ্যা, বৈষম্যের প্রশ্ন ও সমাধানের পথ।

পূর্ণ যৌবনা কুমার নদী এখন জৌলুস হারিয়ে মৃত প্রায় নদীতে রূপ নিয়েছে।

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

এক সময়ের প্রমত্তা, খরস্রোতা,পূর্ণ যৌবনের জৌলুস, দাম্ভিকতা কোনটাই অবশিষ্ট নেই, সব কিছুই আজ হারিয়ে ফেলেছে রাজৈরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদী। কালের পরিক্রমায় কুমার নদী আজ মৃত প্রায়।

 

একদিন এই নদীর নাম-ডাক ছিল যৌবনের উচ্ছাস, উদ্দিপনা ছিল, হুংকার আর গর্জনে হৃদপিন্ডে কাপনের সৃষ্টি হত পার্শ্ববর্তী দু-চার এলাকার লোকজনের। অথচ সেই নদী আজ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে প্রতিনিয়ত। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও মানুষের লাগামহীন অত্যাচারে কুমার নদী হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের পাতা থেকে।

ষাটের দশকে এই কুমার নদীর বুক চিরে বয়ে যেত বড়, বড় ষ্টীমার, লঞ্চ,চরমুগুরিয়া থেকে খুলনা পর্যন্ত। বড়, বড় ঘাসী নৌকা পাল তুলে ছুটে যেত ভাটিয়ালী গানের সুরের তালে,তালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের দুর- দুরন্তে যাতায়াতের এক মাত্র অবলম্বন ছিল এই কুমার নদী। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেই নদী আজ মুখ থুবরে পড়ে আছে জীবন্ত লাশ হয়ে।

এই নদীর হিংস্র স্রোতে ডুবে গেছে অজস্র ছোট বড় নৌকা, কেড়ে নিয়েছে শত সহস্র মায়ের নারী ছেড়া ধন, অনেক ধনীকে বানিয়েছে ফকির, আবার ফকিরকে বানিয়েছে ধনী।

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদী দুই পাড়ের বাসিন্দারা থাকতো আতংকে এই বুঝি তাদের শেষ সম্বল ভিটা বাড়ি টুকু কেড়ে নিয়ে যাবে নদী গর্ভে।

সেই নদী দিয়ে আজ লঞ্চ,স্টিমার চলা তো দুরের কথা মানুষের ব্যবহার করার মত পানিও থাকে না। এই নদী নিয়ে অনেক লেখা লেখি হয়েছে পত্র পত্রিকায় কিন্ত কোন কিছুতেই প্রশাসনের টনক নড়ছে না। নদীর রাজৈরের অংশ কচুরিপানায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ। ময়লা আবর্জনা ফেলার একমাত্র ডাস্টবিনই মনে হচ্ছে এই নদী। রাজৈর পৌরসভার ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে আজকের কুমার নদী।

 

নদীটি আগের মত সচল থাকলে নদীর দুই পাড়ের কৃষকদের সেচ ব্যবস্থায় অনেক সাশ্রয়ী হত। নদীর পানি ব্যবহারে জমিতে বেড়ে যেত বহুগুণ উর্বরতা শক্তি, ফসল আসতো দ্বিগুন। তাই নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রানের দাবী নদী সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের চোখের কালো চশমা খুলে অতি দ্রুত কুমার নদীটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। নয়তো একদিন এ নদীর অস্তিত্ব খুঁজতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দ্বারস্থ হতে হবে। এলাকাবাসীর আশা অচিরেই হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভেঙ্গে কুমার নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হবেন।