খিলগাঁওয়ে বাসা ভাড়ার নামে ডেকে এনে শিক্ষক ও বিজ্ঞানী সরোয়ারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা, থানায় মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন উত্তরগাঁও ত্রিমোহনী এলাকায় বাসা ভাড়া নেওয়ার বাহানায় ডেকে এনে সৈয়দ শাহ মোহাম্মদ সরোয়ার নামের একজন শিক্ষক ও বিজ্ঞানীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরাজি হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর গলায় এবং দুই হাতের কবজি ও আঙুলে মারাত্মক জখম হওয়ায় চিকিৎসকরা প্রায় ৪২টি সেলাই দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দ মিনহাজুল বাহার বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩/৩৪২/৩২৬/৩০৭/৩৮০/৩৪ ধারায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর: ২৯, তারিখ: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬)।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, খিলগাঁও থানাধীন উত্তরগাঁও মসজিদ রোডের ৫৮/৩ নম্বর বাসার ৪র্থ তলার একটি কক্ষ ভাড়া নেওয়ার জন্য চলতি অক্টোবর মাসে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি শিক্ষক ও বিজ্ঞানী শাহ মোহাম্মদ সরোয়ারের সাথে যোগাযোগ করে। পরে অগ্রিম টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দেওয়ার কথা বলে ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ৯:০০ ঘটিকায় ভুক্তভোগী সরোয়ারকে ওই বাসায় ডেকে নেওয়া হয়।
তিনি ৪র্থ তলার কক্ষে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা বাথরুমের লাইট নষ্টের অজুহাতে কৌশলে তাঁকে ভেতরে নিয়ে যায় এবং দরজার খিল এঁটে দেয়। এরপর ৫-6 জনের সংঘবদ্ধ চক্রটি তাকে ফ্লোরে ফেলে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে তাঁর গলায় মারাত্মক জখম হয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আত্নরক্ষার চেষ্টা করার সময় তাঁর দুই হাতের কবজি ও আঙুল কেটে মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়।
ঘাতকরা ভুক্তভোগীর মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে তাঁর সাথে থাকা ২০,০০০ টাকা মূল্যের একটি ভিভো মোবাইল সেট ছিনতাই করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের ধারণা, এর আগে বিভিন্ন সময় ওই এলাকায় মাদকাসক্ত ও মাদকের ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় এবং সাবেক মাদকাসক্ত ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যে বাসা ভাড়ার এই ফাঁদ পেতেছিল।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে খিলগাঁও থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
সারাক্ষণ ডেস্ক 


















