ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বৈতরণীর বিজয়গাথা: ঢেউয়ের বুকে মৃধাবাড়ির গৌরব, জনতার হৃদয়ে বিজয়ের উল্লাস। শরীয়তপুর জেলা সদর উপজেলা কর্তৃক আয়োজিত দাওয়াতী আজিমুশ্বান ইসলামী জলসা অনুষ্ঠিত পুকুরে ডুবে জমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু নির্বাচিত হলে সার খোলা বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করব: মির্জা ফয়সল আমিন বড়াইগ্রামে বাস- ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, পরিচয় মিলেছে ৯ জনের বেনাপোলে বাড়ি নির্মাণে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি নিরাপত্তাহীন পরিবারের সংবাদ সম্মেলন  কাজী আব্দুল্লাহ আল আমিনকে মাদক কারবারী আখ্যা, উত্তর জেলা যুবদলের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা সৌদি আরব নিরাপত্তা বাহিনী অবৈধ বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।  বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় চোরাচালান পণ্য আটক  এমপি মাধবী মার্মার সাথে পুজামন্ডপ পরিদর্শনে ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার

বৈতরণীর বিজয়গাথা: ঢেউয়ের বুকে মৃধাবাড়ির গৌরব, জনতার হৃদয়ে বিজয়ের উল্লাস।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

 

বিজয়া দশমীর পুণ্যতিথিতে গোপালগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী সাতপাড় বিলরুট ক্যানালে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার প্রাণের উৎসব নৌকাবাইচ। নদী-খাল-বিলের দেশ বাংলাদেশের আবহমান লোকজ সংস্কৃতির এই অনন্য আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—বাংলার শেকড় আজও বেঁচে আছে মানুষের হৃদয়ে, নদীর ঢেউয়ে আর বৈঠার ছন্দে।

 

এবারের নৌকাবাইচে বিশেষ গৌরব অর্জন করেছে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মৃধাবাড়ি গ্রামের নিউটন বসুর ‘বৈতরণী’ নৌকা। প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে বিজয়ের শিরোপা অর্জন করে বৈতরণী শুধু একটি প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়নি; লক্ষ লক্ষ দর্শকের উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা ও আবেগের মধ্য দিয়ে ছিনিয়ে এনেছে মৃধাবাড়ির মানুষের সম্মান ও গৌরব। এ বিজয় এক গ্রামের সীমানা পেরিয়ে পুরো রাজৈরবাসীর জন্য আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

 

বৈতরণীর জয়—ঐক্য, শ্রম ও অদম্য প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি:

 

নৌকাবাইচ কেবল দ্রুতগতিতে নৌকা চালিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার প্রতিযোগিতা নয়। এর প্রতিটি বৈঠার আঘাতে মিশে থাকে মাঝিদের শারীরিক শ্রম, মানসিক দৃঢ়তা, পারস্পরিক সমন্বয় ও জয়ের অদম্য আকাঙ্ক্ষা। একজন মাঝির সামান্য অসামঞ্জস্য যেমন পুরো দলকে পিছিয়ে দিতে পারে, তেমনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলতে পারে।

 

বৈতরণীর বিজয়ের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে সেই সম্মিলিত শক্তিরই মহিমা। নৌকার মালিক নিউটন বসুর উদ্যোগ, মাঝিদের দক্ষতা, দলগত শৃঙ্খলা এবং বিজয়ের লক্ষ্যে অবিচল থাকার প্রত্যয়—সবকিছু মিলিয়েই এই অর্জনকে করেছে স্মরণীয়। এ সাফল্য আমাদের শেখায়, ব্যক্তিগত সামর্থ্য যখন সম্মিলিত প্রয়াসের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন বিজয় শুধু সম্ভাবনা থাকে না, বাস্তবতায় রূপ নেয়।

 

বিজয়া দশমী ও নৌকাবাইচ—আনন্দ, সম্প্রীতি ও লোকঐতিহ্যের মেলবন্ধন:

 

বিজয়া দশমী শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তির দিন হলেও এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং বিভেদের পরিবর্তে সম্প্রীতির বন্ধন। এমন একটি দিনে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আয়োজন গ্রামীণ জনজীবনে যোগ করে ভিন্নমাত্রার আনন্দ।

 

লক্ষ লক্ষ দর্শকের উপস্থিতি, উচ্ছ্বাস, করতালি আর বিজয়ের মুহূর্তে সম্মিলিত উল্লাস প্রমাণ করে—লোকজ সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে কত গভীর সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি কিংবা ভৌগোলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ যখন একটি সাংস্কৃতিক উৎসব উপভোগ করে, তখনই বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়।

 

এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা তাই কেবল বিনোদনের ব্যবস্থা করা নয়; বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির উত্তরাধিকার পৌঁছে দেওয়া।

 

নদীমাতৃক বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় চাই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ

একসময় বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ জলাভূমি ছিল নৌকাবাইচের স্বাভাবিক মঞ্চ। বর্ষার জল, নদীর ঢেউ, রঙিন নৌকা আর মাঝিদের গানের সুরে মুখর হয়ে উঠত গ্রামবাংলা। কিন্তু নদী ভরাট, নাব্যতা হ্রাস, জলাশয় দখল এবং আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে অনেক এলাকায় এই ঐতিহ্য আজ সংকটের মুখোমুখি।

সাতপাড় বিলরুট ক্যানালের এই আয়োজন আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগে নৌকাবাইচকে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা সম্ভব। পাশাপাশি প্রতিযোগীদের নিরাপত্তা, দর্শকদের সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রকৃত বিজয়ীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।

 

নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যটন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

মৃধাবাড়ির গৌরব হোক আগামীর প্রেরণা

নিউটন বসুর বৈতরণীর এই বিজয় কেবল একটি পুরস্কার অর্জনের ঘটনা নয়; এটি মৃধাবাড়ি গ্রামের মানুষের আত্মবিশ্বাস, রাজৈর উপজেলার সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের ভালোবাসার প্রতীক। যে জনপদের মানুষ নিজেদের ঐতিহ্যকে ধারণ করতে জানে, সেই জনপদ কখনো তার শেকড় হারায় না।

 

আজ বৈতরণীর বিজয়ে মৃধাবাড়ি আনন্দিত, কদমবাড়ী গর্বিত, রাজৈরবাসী উচ্ছ্বসিত। এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সুস্থ প্রতিযোগিতায় উৎসাহিত করুক। তরুণেরা শিখুক—বিজয়ের জন্য প্রয়োজন নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা; আর প্রকৃত বিজয়ের সৌন্দর্য প্রতিপক্ষকে ছোট করার মধ্যে নয়, নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটানোর মধ্যে।

 

আলোচনান্তে এ কথা বলা যায়,বৈতরণীর বৈঠায় শুধু জল কাটা হয়নি, জেগে উঠেছে একটি জনপদের গৌরব। সাতপাড়ের ঢেউয়ে যে বিজয়ের উল্লাস ধ্বনিত হয়েছে, তার প্রতিধ্বনি পৌঁছে গেছে মৃধাবাড়ি থেকে সমগ্র রাজৈরে। এই বিজয় হোক বাংলার লোকঐতিহ্য রক্ষার অঙ্গীকার, সামাজিক সম্প্রীতির অনুপ্রেরণা এবং আগামী দিনের সাংস্কৃতিক জাগরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অভিনন্দন নিউটন বসু ও বৈতরণীর সকল মাঝিকে। অভিনন্দন মৃধাবাড়ি, কদমবাড়ী ও রাজৈরবাসীকে। বাংলার নদী বাঁচুক, ঐতিহ্য বাঁচুক, বৈতরণীর মতো বিজয়ের গৌরব ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈতরণীর বিজয়গাথা: ঢেউয়ের বুকে মৃধাবাড়ির গৌরব, জনতার হৃদয়ে বিজয়ের উল্লাস।

বৈতরণীর বিজয়গাথা: ঢেউয়ের বুকে মৃধাবাড়ির গৌরব, জনতার হৃদয়ে বিজয়ের উল্লাস।

আপডেট সময় : ০১:০১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

 

 

বিজয়া দশমীর পুণ্যতিথিতে গোপালগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী সাতপাড় বিলরুট ক্যানালে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার প্রাণের উৎসব নৌকাবাইচ। নদী-খাল-বিলের দেশ বাংলাদেশের আবহমান লোকজ সংস্কৃতির এই অনন্য আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—বাংলার শেকড় আজও বেঁচে আছে মানুষের হৃদয়ে, নদীর ঢেউয়ে আর বৈঠার ছন্দে।

 

এবারের নৌকাবাইচে বিশেষ গৌরব অর্জন করেছে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মৃধাবাড়ি গ্রামের নিউটন বসুর ‘বৈতরণী’ নৌকা। প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে বিজয়ের শিরোপা অর্জন করে বৈতরণী শুধু একটি প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়নি; লক্ষ লক্ষ দর্শকের উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা ও আবেগের মধ্য দিয়ে ছিনিয়ে এনেছে মৃধাবাড়ির মানুষের সম্মান ও গৌরব। এ বিজয় এক গ্রামের সীমানা পেরিয়ে পুরো রাজৈরবাসীর জন্য আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

 

বৈতরণীর জয়—ঐক্য, শ্রম ও অদম্য প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি:

 

নৌকাবাইচ কেবল দ্রুতগতিতে নৌকা চালিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার প্রতিযোগিতা নয়। এর প্রতিটি বৈঠার আঘাতে মিশে থাকে মাঝিদের শারীরিক শ্রম, মানসিক দৃঢ়তা, পারস্পরিক সমন্বয় ও জয়ের অদম্য আকাঙ্ক্ষা। একজন মাঝির সামান্য অসামঞ্জস্য যেমন পুরো দলকে পিছিয়ে দিতে পারে, তেমনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলতে পারে।

 

বৈতরণীর বিজয়ের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে সেই সম্মিলিত শক্তিরই মহিমা। নৌকার মালিক নিউটন বসুর উদ্যোগ, মাঝিদের দক্ষতা, দলগত শৃঙ্খলা এবং বিজয়ের লক্ষ্যে অবিচল থাকার প্রত্যয়—সবকিছু মিলিয়েই এই অর্জনকে করেছে স্মরণীয়। এ সাফল্য আমাদের শেখায়, ব্যক্তিগত সামর্থ্য যখন সম্মিলিত প্রয়াসের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন বিজয় শুধু সম্ভাবনা থাকে না, বাস্তবতায় রূপ নেয়।

 

বিজয়া দশমী ও নৌকাবাইচ—আনন্দ, সম্প্রীতি ও লোকঐতিহ্যের মেলবন্ধন:

 

বিজয়া দশমী শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তির দিন হলেও এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং বিভেদের পরিবর্তে সম্প্রীতির বন্ধন। এমন একটি দিনে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আয়োজন গ্রামীণ জনজীবনে যোগ করে ভিন্নমাত্রার আনন্দ।

 

লক্ষ লক্ষ দর্শকের উপস্থিতি, উচ্ছ্বাস, করতালি আর বিজয়ের মুহূর্তে সম্মিলিত উল্লাস প্রমাণ করে—লোকজ সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে কত গভীর সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি কিংবা ভৌগোলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ যখন একটি সাংস্কৃতিক উৎসব উপভোগ করে, তখনই বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়।

 

এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা তাই কেবল বিনোদনের ব্যবস্থা করা নয়; বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির উত্তরাধিকার পৌঁছে দেওয়া।

 

নদীমাতৃক বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় চাই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ

একসময় বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ জলাভূমি ছিল নৌকাবাইচের স্বাভাবিক মঞ্চ। বর্ষার জল, নদীর ঢেউ, রঙিন নৌকা আর মাঝিদের গানের সুরে মুখর হয়ে উঠত গ্রামবাংলা। কিন্তু নদী ভরাট, নাব্যতা হ্রাস, জলাশয় দখল এবং আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে অনেক এলাকায় এই ঐতিহ্য আজ সংকটের মুখোমুখি।

সাতপাড় বিলরুট ক্যানালের এই আয়োজন আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগে নৌকাবাইচকে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা সম্ভব। পাশাপাশি প্রতিযোগীদের নিরাপত্তা, দর্শকদের সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রকৃত বিজয়ীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।

 

নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যটন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

মৃধাবাড়ির গৌরব হোক আগামীর প্রেরণা

নিউটন বসুর বৈতরণীর এই বিজয় কেবল একটি পুরস্কার অর্জনের ঘটনা নয়; এটি মৃধাবাড়ি গ্রামের মানুষের আত্মবিশ্বাস, রাজৈর উপজেলার সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের ভালোবাসার প্রতীক। যে জনপদের মানুষ নিজেদের ঐতিহ্যকে ধারণ করতে জানে, সেই জনপদ কখনো তার শেকড় হারায় না।

 

আজ বৈতরণীর বিজয়ে মৃধাবাড়ি আনন্দিত, কদমবাড়ী গর্বিত, রাজৈরবাসী উচ্ছ্বসিত। এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সুস্থ প্রতিযোগিতায় উৎসাহিত করুক। তরুণেরা শিখুক—বিজয়ের জন্য প্রয়োজন নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা; আর প্রকৃত বিজয়ের সৌন্দর্য প্রতিপক্ষকে ছোট করার মধ্যে নয়, নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটানোর মধ্যে।

 

আলোচনান্তে এ কথা বলা যায়,বৈতরণীর বৈঠায় শুধু জল কাটা হয়নি, জেগে উঠেছে একটি জনপদের গৌরব। সাতপাড়ের ঢেউয়ে যে বিজয়ের উল্লাস ধ্বনিত হয়েছে, তার প্রতিধ্বনি পৌঁছে গেছে মৃধাবাড়ি থেকে সমগ্র রাজৈরে। এই বিজয় হোক বাংলার লোকঐতিহ্য রক্ষার অঙ্গীকার, সামাজিক সম্প্রীতির অনুপ্রেরণা এবং আগামী দিনের সাংস্কৃতিক জাগরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অভিনন্দন নিউটন বসু ও বৈতরণীর সকল মাঝিকে। অভিনন্দন মৃধাবাড়ি, কদমবাড়ী ও রাজৈরবাসীকে। বাংলার নদী বাঁচুক, ঐতিহ্য বাঁচুক, বৈতরণীর মতো বিজয়ের গৌরব ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী।