ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
শারদীয় দুর্গোৎসব: শাস্ত্রীয় দর্শন, মানবতার অঙ্গীকার ও সমকালীন সমাজের আত্মজিজ্ঞাসা। রিয়াদে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম: তিন পক্ষের সাথে প্রতিমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আধুনিক ও উন্নত রেল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: রেলমন্ত্রী মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিবারের কোলে ফিরল চার বছরের আবদুল্লাহ অসুস্থতায় অসহায় রনি, অপারেশন সম্ভব নয়—সাহায্যের আবেদন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে পূজামণ্ডপভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের আহ্বান বিএনপির। ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির ভোটও দাঁড়িপাল্লায় পড়বে: রাশেদ প্রধান নেত্রকোনায় মাদক সেবনের অভিযোগে পৌর ছাত্রদল সম্পাদকসহ ৪ জন আটক, আদালতে প্রেরণ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার “কোবরা গ্রুপ/ সোহেল গ্রুপ” এর প্রধান শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাট ১৫ মামলার আসামী সোহেল খন্দকার’কে বিদেশি রিভলবার, গুলি ও হেরোইনসহ গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১১” কুমার নদের বুকে বৈতরণীর বিজয়কেতন!

মিটফোর্ডে ওষুধ সিন্ডিকেটের অভিযোগ : গোপনে উৎপাদন ও সারা দেশে সরবরাহ—জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ?

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮৪৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওষুধ পাইকারি বাজার মিটফোর্ডকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধ ওষুধ মজুদ, গোপন উৎপাদন ও দেশব্যাপী সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেডিসিন মার্কেটকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ : অভিযোগে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— রহিম ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) দেবস্মিতা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) বেপারী ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) ত্রিরত্ন ড্রাগ হাউস (আমির মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) বিসমিল্লাহ ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) রনি ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) শাহিদা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা)

রিপন ড্রাগ হাউস (ভুঁইয়া মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) অভিযোগে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সমন্বিত চক্র অবৈধভাবে ওষুধ বাজারজাত করছে।

‘গডফাদার’ অভিযোগ ও নতুন অফিস : অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মোহাম্মদ দিদার নাম উঠে এসেছে। জানা গেছে, তিনি এক-দুই বছর আগেও ইসলামপুর রোডের খান মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত “ইছামতি ড্রাগ হাউস”-এ চাকরি করতেন। বর্তমানে তিনি একই মার্কেটের তৃতীয় তলায় “নাসিমা ফার্মা” নামে একটি অফিস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে সাদিক সৈকতসহ আরও কয়েকজন অংশীদার রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা কিছু কোম্পানি থেকে বৈধভাবে পণ্য ক্রয় করে সেসবের জনপ্রিয় (চালু) পণ্য আলাদা করে গোপনে পুনরুৎপাদন করিয়ে বাজারে ছাড়ছেন।

গোপন উৎপাদন ও গুদামজাতের অভিযোগ : অভিযোগে আরও বলা হয়, গাজীপুরের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার মাধ্যমে গোপনে উৎপাদিত পণ্য মিটফোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তরা সেক্টর-৬-এর একটি বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে বিশাল গুদামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে দাবি।

রাজনৈতিক ও সমিতি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রশাসন ও কিছু সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এমনকি অতীতে কয়েকটি দোকানে অভিযান হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন :

অভিযোগকারীদের দাবি, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল মূলধনের মালিক হওয়া, প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার এবং বড় ফ্ল্যাট ক্রয়—এসবের আর্থিক উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও তোলা হয়েছে, যদিও এর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি : স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনবিহীন বা নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত হলে তা রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কার্যকারিতা কমে যাওয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

ওষুধ খাতে অনিয়ম কেবল আর্থিক অপরাধ নয়—এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত

উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ন্যায্য ব্যবসা পরিবেশ বজায় রাখা এবং বাজারে ভেজাল বা অবৈধ ওষুধ প্রতিরোধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দুর্গোৎসব: শাস্ত্রীয় দর্শন, মানবতার অঙ্গীকার ও সমকালীন সমাজের আত্মজিজ্ঞাসা।

মিটফোর্ডে ওষুধ সিন্ডিকেটের অভিযোগ : গোপনে উৎপাদন ও সারা দেশে সরবরাহ—জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ?

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওষুধ পাইকারি বাজার মিটফোর্ডকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধ ওষুধ মজুদ, গোপন উৎপাদন ও দেশব্যাপী সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেডিসিন মার্কেটকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ : অভিযোগে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— রহিম ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) দেবস্মিতা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) বেপারী ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) ত্রিরত্ন ড্রাগ হাউস (আমির মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা) বিসমিল্লাহ ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) রনি ড্রাগ হাউস (আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেট, উত্তরা ব্যাংকের পাশে) শাহিদা ড্রাগ হাউস (শওকত আলী মেডিসিন মার্কেট, ২য় তলা)

রিপন ড্রাগ হাউস (ভুঁইয়া মেডিসিন মার্কেট, নিচতলা) অভিযোগে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সমন্বিত চক্র অবৈধভাবে ওষুধ বাজারজাত করছে।

‘গডফাদার’ অভিযোগ ও নতুন অফিস : অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মোহাম্মদ দিদার নাম উঠে এসেছে। জানা গেছে, তিনি এক-দুই বছর আগেও ইসলামপুর রোডের খান মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত “ইছামতি ড্রাগ হাউস”-এ চাকরি করতেন। বর্তমানে তিনি একই মার্কেটের তৃতীয় তলায় “নাসিমা ফার্মা” নামে একটি অফিস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে সাদিক সৈকতসহ আরও কয়েকজন অংশীদার রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা কিছু কোম্পানি থেকে বৈধভাবে পণ্য ক্রয় করে সেসবের জনপ্রিয় (চালু) পণ্য আলাদা করে গোপনে পুনরুৎপাদন করিয়ে বাজারে ছাড়ছেন।

গোপন উৎপাদন ও গুদামজাতের অভিযোগ : অভিযোগে আরও বলা হয়, গাজীপুরের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার মাধ্যমে গোপনে উৎপাদিত পণ্য মিটফোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তরা সেক্টর-৬-এর একটি বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে বিশাল গুদামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে দাবি।

রাজনৈতিক ও সমিতি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রশাসন ও কিছু সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এমনকি অতীতে কয়েকটি দোকানে অভিযান হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন :

অভিযোগকারীদের দাবি, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল মূলধনের মালিক হওয়া, প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার এবং বড় ফ্ল্যাট ক্রয়—এসবের আর্থিক উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও তোলা হয়েছে, যদিও এর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি : স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনবিহীন বা নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত হলে তা রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কার্যকারিতা কমে যাওয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

ওষুধ খাতে অনিয়ম কেবল আর্থিক অপরাধ নয়—এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত

উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ন্যায্য ব্যবসা পরিবেশ বজায় রাখা এবং বাজারে ভেজাল বা অবৈধ ওষুধ প্রতিরোধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।