ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‎ লটারির নামে জালিয়াতি মন্ত্রী সচিব কে ভুল বুঝিয়ে তাদের লক্ষ্য পূরণ করিয়েছে রক্ষক যেখানে ভক্ষক গণপূর্ত অধিদপ্তরে ই/এম প্রকৌশলী পদে পদায়নের লটারি নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন যুবলীগ নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান: এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন চারশত কোটির আজিমপুর প্রকল্প কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের

সবুজ পাহাড় আর মেঘের রাজ্য লামা বাংলাদেশের নতুন পর্যটন বিস্ময়! 

সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা নদী, পাহাড়চূড়ায় মেঘের রাজত্ব,আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা লামা উপজেলা এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। এক সময় দুর্গম পাহাড়ি জনপদ হিসেবে পরিচিত এই উপজেলা বর্তমানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে লামার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা নান্দনিক কটেজ, রিসোর্ট ও ভিউ পয়েন্ট পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাহাড়ের ঢালে নির্মিত কাঠ ও বাঁশের কটেজগুলো যেন মেঘের রাজ্যে ভেসে থাকা ছোট্ট স্বপ্নের ঘর। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়জুড়ে নেমে আসা সাদা মেঘের চাদর আর সবুজের সমারোহ পর্যটকদের বিমোহিত করে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভোরবেলা পাহাড়চূড়ায় দাঁড়ালে মনে হয় যেন মেঘের সাগরের মধ্যে অবস্থান করছেন। মেঘের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের আলো, দূরের পাহাড়ের সারি এবং নিচে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

লামার অন্যতম আকর্ষণ হলো মাতামুহুরী নদী। পাহাড়ের বুক চিরে সাপের মতো আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চলা এই নদী লামার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। উঁচু পাহাড় থেকে নদীর মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। প্রকৃতির এমন অপূর্ব সমন্বয় দেশের অন্য অনেক পর্যটন কেন্দ্রেও বিরল।

পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নতুন নতুন রিসোর্ট, কটেজ, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক তরুণ এখন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক লামায় ভিড় করেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে মেঘের খেলা দেখতে এবং শীতকালে পাহাড়ি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের আগমন সবচেয়ে বেশি হয়।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে লামা দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তোলারও সুযোগ রয়েছে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়ের নির্জনতা, মেঘের মায়াবী স্পর্শ এবং মাতামুহুরী নদীর মোহনীয় রূপ—সব মিলিয়ে লামা আজ পর্যটকদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য। পর্যটন শিল্পের বিকাশের ধারাবাহিকতায় বদলে যাচ্ছে লামার অর্থনীতি, জীবনযাত্রা এবং সম্ভাবনার দিগন্ত। তাই অনেকেই এখন বলছেন, “পাহাড় আর মেঘের রাজ্য লামা—বাংলাদেশের নতুন পর্যটন বিস্ময়।”

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‎

সবুজ পাহাড় আর মেঘের রাজ্য লামা বাংলাদেশের নতুন পর্যটন বিস্ময়! 

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা নদী, পাহাড়চূড়ায় মেঘের রাজত্ব,আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা লামা উপজেলা এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। এক সময় দুর্গম পাহাড়ি জনপদ হিসেবে পরিচিত এই উপজেলা বর্তমানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে লামার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা নান্দনিক কটেজ, রিসোর্ট ও ভিউ পয়েন্ট পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাহাড়ের ঢালে নির্মিত কাঠ ও বাঁশের কটেজগুলো যেন মেঘের রাজ্যে ভেসে থাকা ছোট্ট স্বপ্নের ঘর। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়জুড়ে নেমে আসা সাদা মেঘের চাদর আর সবুজের সমারোহ পর্যটকদের বিমোহিত করে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভোরবেলা পাহাড়চূড়ায় দাঁড়ালে মনে হয় যেন মেঘের সাগরের মধ্যে অবস্থান করছেন। মেঘের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের আলো, দূরের পাহাড়ের সারি এবং নিচে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

লামার অন্যতম আকর্ষণ হলো মাতামুহুরী নদী। পাহাড়ের বুক চিরে সাপের মতো আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চলা এই নদী লামার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। উঁচু পাহাড় থেকে নদীর মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। প্রকৃতির এমন অপূর্ব সমন্বয় দেশের অন্য অনেক পর্যটন কেন্দ্রেও বিরল।

পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নতুন নতুন রিসোর্ট, কটেজ, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক তরুণ এখন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক লামায় ভিড় করেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে মেঘের খেলা দেখতে এবং শীতকালে পাহাড়ি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের আগমন সবচেয়ে বেশি হয়।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে লামা দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তোলারও সুযোগ রয়েছে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়ের নির্জনতা, মেঘের মায়াবী স্পর্শ এবং মাতামুহুরী নদীর মোহনীয় রূপ—সব মিলিয়ে লামা আজ পর্যটকদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য। পর্যটন শিল্পের বিকাশের ধারাবাহিকতায় বদলে যাচ্ছে লামার অর্থনীতি, জীবনযাত্রা এবং সম্ভাবনার দিগন্ত। তাই অনেকেই এখন বলছেন, “পাহাড় আর মেঘের রাজ্য লামা—বাংলাদেশের নতুন পর্যটন বিস্ময়।”