ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
শারদীয় দুর্গোৎসব: শাস্ত্রীয় দর্শন, মানবতার অঙ্গীকার ও সমকালীন সমাজের আত্মজিজ্ঞাসা। রিয়াদে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম: তিন পক্ষের সাথে প্রতিমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আধুনিক ও উন্নত রেল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: রেলমন্ত্রী মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিবারের কোলে ফিরল চার বছরের আবদুল্লাহ অসুস্থতায় অসহায় রনি, অপারেশন সম্ভব নয়—সাহায্যের আবেদন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে পূজামণ্ডপভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের আহ্বান বিএনপির। ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির ভোটও দাঁড়িপাল্লায় পড়বে: রাশেদ প্রধান নেত্রকোনায় মাদক সেবনের অভিযোগে পৌর ছাত্রদল সম্পাদকসহ ৪ জন আটক, আদালতে প্রেরণ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার “কোবরা গ্রুপ/ সোহেল গ্রুপ” এর প্রধান শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাট ১৫ মামলার আসামী সোহেল খন্দকার’কে বিদেশি রিভলবার, গুলি ও হেরোইনসহ গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১১” কুমার নদের বুকে বৈতরণীর বিজয়কেতন!

উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে ভয়াবহ মাদক চোরাচালান, প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সদস্য মোতায়েনের জোর দাবি।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অবৈধ মাদক চোরাচালান। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের বিভিন্ন দুর্বল পয়েন্ট ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাচ্ছে।

জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত কৌশলী পদ্ধতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাতের অন্ধকার, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় এই চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে।

 

বিশেষ করে যুব সমাজের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। সহজলভ্যতার কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

 

স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও, বিশাল এলাকা এবং সীমিত জনবল থাকার কারণে সব পয়েন্টে নজরদারি রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতায় তারা মনে করছেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

 

এ বিষয়ে এলাকার সচেতন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলেন, “যদি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়, তাহলে মাদক চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কারণ আনসার-ভিডিপি সদস্যরা স্থানীয় এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত।”

 

তারা আরও জানান, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হলে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

 

এদিকে স্থানীয় জনগণ দ্রুত সময়ের মধ্যে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিস এবং উখিয়া থানার প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে মাদক চোরাচালান অনেকাংশে কমে আসবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

 

সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা—প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে পালংখালীকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এবং একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দুর্গোৎসব: শাস্ত্রীয় দর্শন, মানবতার অঙ্গীকার ও সমকালীন সমাজের আত্মজিজ্ঞাসা।

উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে ভয়াবহ মাদক চোরাচালান, প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সদস্য মোতায়েনের জোর দাবি।

আপডেট সময় : ১১:৩২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অবৈধ মাদক চোরাচালান। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের বিভিন্ন দুর্বল পয়েন্ট ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাচ্ছে।

জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত কৌশলী পদ্ধতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাতের অন্ধকার, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় এই চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে।

 

বিশেষ করে যুব সমাজের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। সহজলভ্যতার কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

 

স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও, বিশাল এলাকা এবং সীমিত জনবল থাকার কারণে সব পয়েন্টে নজরদারি রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতায় তারা মনে করছেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

 

এ বিষয়ে এলাকার সচেতন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলেন, “যদি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়, তাহলে মাদক চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কারণ আনসার-ভিডিপি সদস্যরা স্থানীয় এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত।”

 

তারা আরও জানান, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হলে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

 

এদিকে স্থানীয় জনগণ দ্রুত সময়ের মধ্যে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিস এবং উখিয়া থানার প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে মাদক চোরাচালান অনেকাংশে কমে আসবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

 

সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা—প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে পালংখালীকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এবং একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে।