ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে বিক্রির বিজ্ঞাপন, এসআরবির অভিযানে যুবক আটক শাহপরীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবা জব্দ ঢাকা জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬, সহযোগিতার জন্য পুলিশ সুপারের কৃতজ্ঞতা গফরগাঁওয়ে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী ও শাশুড়ির দিকে সন্দেহের তীর গোপালগঞ্জে রঘুনাথপুর সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ, ধুলায় দুর্ভোগে পথচারীরা প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি, জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে কেসিসি প্রশাসক টেকনাফের হ্নীলা রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, সাবেক সেনা সদস্যসহ আটক ৬ বৈতরণীর বিজয়গাথা: ঢেউয়ের বুকে মৃধাবাড়ির গৌরব, জনতার হৃদয়ে বিজয়ের উল্লাস। শরীয়তপুর জেলা সদর উপজেলা কর্তৃক আয়োজিত দাওয়াতী আজিমুশ্বান ইসলামী জলসা অনুষ্ঠিত পুকুরে ডুবে জমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

কুমারের বুকে বৈতরণীর বিজয়: বৈঠার ছন্দে ফিরে এলো বাংলার হারানো প্রাণ।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

বাংলার নদী শুধু জলধারা নয়—নদী আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আবেগ ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদীর বুকেই একদিন গড়ে উঠেছিল বাংলার জনপদ; নদীর স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে এ দেশের মানুষের হাসি-কান্না, জীবন-জীবিকা আর লোকজ সংস্কৃতির অমলিন স্মৃতি। সেই নদী যখন বৈঠার ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে, মাঝির কণ্ঠে ওঠে বিজয়ের হুঙ্কার, আর নদীর দুই তীরে নামে মানুষের ঢল—তখন মনে হয়, বাংলার চিরন্তন প্রাণ এখনো নিঃশেষ হয়ে যায়নি।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার বিকেলে ভাঙ্গার কুমার নদে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচ যেন সেই কথাই আবারও প্রমাণ করল।

স্মরণকালের অন্যতম উপভোগ্য এই নৌকাবাইচকে ঘিরে কুমার নদীর দুই পাড়ে নেমেছিল লক্ষ মানুষের ঢল। নদীর বুকজুড়ে ছুটে চলা একের পর এক নৌকা, শত শত বৈঠার সম্মিলিত ছন্দ, মাঝিদের উদ্দীপ্ত হুঙ্কার আর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে কুমার নদ সেদিন পরিণত হয়েছিল বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক বিশাল মঞ্চে।

নৌকাবাইচের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আলী রিয়াজ, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার, ভাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের উপস্থিতি আয়োজনটির গুরুত্ব ও মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে এই উৎসবের প্রকৃত প্রাণ ছিলেন নদীর দুই তীরে সমবেত অগণিত সাধারণ মানুষ—যাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিকতার জন্য নয়, নিজেদের শেকড় ও ঐতিহ্যের টানে ছুটে এসেছিলেন কুমারের পাড়ে।

কারণ নৌকাবাইচ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনের উৎসব, নদীর সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্কের উৎসব এবং নিজের শেকড়কে নতুন করে আবিষ্কারের উৎসব।

আর সেই উৎসবের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মৃধাবাড়ি গ্রামের নিউটন বসুর ‘বৈতরণী’ নৌকার বিজয়।

একের পর এক প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকাকে পেছনে ফেলে যখন ‘বৈতরণী’ বিজয়ের লক্ষ্যে ছুটে চলেছে, তখন কেবল একটি নৌকা এগিয়ে যাচ্ছিল না—তার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি গ্রামের স্বপ্ন, একটি জনপদের গর্ব এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।

বৈঠা ছিল মাঝিদের হাতে, কিন্তু প্রতিটি বৈঠার আঘাতে যেন স্পন্দিত হচ্ছিল মৃধাবাড়ির মানুষের হৃদয়।

‘বৈতরণী’র এই বিজয় তাই শুধু একটি নৌকার বিজয় নয়। এটি মৃধাবাড়ির আনন্দ, কদমবাড়ীর গর্ব, রাজৈরের উচ্ছ্বাস এবং মাদারীপুরের মানুষের ভালোবাসার এক সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। নদীর বুকে বিজয়ী নৌকার ছুটে চলা আর তীরে দাঁড়িয়ে মানুষের উল্লাস—এই দুইয়ের মিলনে সেদিন যেন সৃষ্টি হয়েছিল এক অনির্বচনীয় আবেগের মুহূর্ত।

আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে আমরা ক্রমেই আমাদের শেকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। প্রযুক্তির পর্দা আমাদের বিনোদনের অসংখ্য দুয়ার খুলে দিয়েছে, কিন্তু নিজের নদী, নৌকা, মাঝি, বৈঠা আর লোকজ উৎসবের সঙ্গে আমাদের স্বাভাবিক সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। সেই বাস্তবতায় কুমার নদীর এই নৌকাবাইচ নিছক বিনোদনের আয়োজন নয়—এটি আমাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতির পুনর্জাগরণ।

এ যেন কুমারের বুক থেকে বাংলার মানুষকে আবারও একটি আহ্বান—

“ফিরে এসো তোমার শেকড়ের কাছে।”

একজন প্রবীণ দর্শক হয়তো এই নৌকাবাইচ দেখে ফিরে পেয়েছেন তার যৌবনের দিনগুলো। একজন তরুণ হয়তো প্রথমবার উপলব্ধি করেছেন, তার পূর্বপুরুষের সংস্কৃতি কতটা প্রাণময়। আর একটি শিশু হয়তো নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মনে মনে ঠিক করে ফেলেছে—এই ঐতিহ্যকে সে একদিনও হারিয়ে যেতে দেবে না।

এই কারণেই নৌকাবাইচকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির একটি জীবন্ত ঐতিহ্য। তাই নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখা, নৌপথ সচল রাখা, ঐতিহ্যবাহী নৌকা নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া, মাঝিদের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে নৌকাবাইচের আয়োজন অব্যাহত রাখা জরুরি।

কারণ—

নদী হারালে নৌকা হারাবে।

নৌকা হারালে নৌকাবাইচ হারাবে।

আর নৌকাবাইচ হারালে বাংলার লোকজ জীবনের একটি স্পন্দিত অধ্যায়ও হারিয়ে যাবে।

১৮ সেপ্টেম্বরের সেই বিকেল তাই শুধু একটি নৌকাবাইচের বিকেল ছিল না। কুমারের বুকে সেদিন যেন ফিরে এসেছিল হারিয়ে যেতে বসা বাংলার এক টুকরো শৈশব, এক টুকরো আবেগ, এক টুকরো গর্ব।

‘বৈতরণী’র বিজয় সেই ভালোবাসারই এক উজ্জ্বল স্মারক।

কুমারের ঢেউ বয়ে যাক, বৈঠার ছন্দ ফিরে আসুক বারবার।

নদীর পাড়ে আবারও জমুক মানুষের মেলা।

মাঝির কণ্ঠে উঠুক বিজয়ের হুঙ্কার।

আর বাংলার নদীগুলো সাক্ষী থাকুক—

এই মাটির মানুষ তার শেকড়কে এখনো ভুলে যায়নি।

কারণ নৌকাবাইচ শুধু নৌকার প্রতিযোগিতা নয়—এটি বাংলার মানুষের হৃদয়, নদী ও ঐতিহ্যের এক চিরন্তন মিলনমেলা।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে বিক্রির বিজ্ঞাপন, এসআরবির অভিযানে যুবক আটক

কুমারের বুকে বৈতরণীর বিজয়: বৈঠার ছন্দে ফিরে এলো বাংলার হারানো প্রাণ।

আপডেট সময় : ১০:৪৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বাংলার নদী শুধু জলধারা নয়—নদী আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আবেগ ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদীর বুকেই একদিন গড়ে উঠেছিল বাংলার জনপদ; নদীর স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে এ দেশের মানুষের হাসি-কান্না, জীবন-জীবিকা আর লোকজ সংস্কৃতির অমলিন স্মৃতি। সেই নদী যখন বৈঠার ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে, মাঝির কণ্ঠে ওঠে বিজয়ের হুঙ্কার, আর নদীর দুই তীরে নামে মানুষের ঢল—তখন মনে হয়, বাংলার চিরন্তন প্রাণ এখনো নিঃশেষ হয়ে যায়নি।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার বিকেলে ভাঙ্গার কুমার নদে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচ যেন সেই কথাই আবারও প্রমাণ করল।

স্মরণকালের অন্যতম উপভোগ্য এই নৌকাবাইচকে ঘিরে কুমার নদীর দুই পাড়ে নেমেছিল লক্ষ মানুষের ঢল। নদীর বুকজুড়ে ছুটে চলা একের পর এক নৌকা, শত শত বৈঠার সম্মিলিত ছন্দ, মাঝিদের উদ্দীপ্ত হুঙ্কার আর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে কুমার নদ সেদিন পরিণত হয়েছিল বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক বিশাল মঞ্চে।

নৌকাবাইচের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আলী রিয়াজ, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার, ভাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের উপস্থিতি আয়োজনটির গুরুত্ব ও মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে এই উৎসবের প্রকৃত প্রাণ ছিলেন নদীর দুই তীরে সমবেত অগণিত সাধারণ মানুষ—যাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিকতার জন্য নয়, নিজেদের শেকড় ও ঐতিহ্যের টানে ছুটে এসেছিলেন কুমারের পাড়ে।

কারণ নৌকাবাইচ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনের উৎসব, নদীর সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্কের উৎসব এবং নিজের শেকড়কে নতুন করে আবিষ্কারের উৎসব।

আর সেই উৎসবের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মৃধাবাড়ি গ্রামের নিউটন বসুর ‘বৈতরণী’ নৌকার বিজয়।

একের পর এক প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকাকে পেছনে ফেলে যখন ‘বৈতরণী’ বিজয়ের লক্ষ্যে ছুটে চলেছে, তখন কেবল একটি নৌকা এগিয়ে যাচ্ছিল না—তার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি গ্রামের স্বপ্ন, একটি জনপদের গর্ব এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।

বৈঠা ছিল মাঝিদের হাতে, কিন্তু প্রতিটি বৈঠার আঘাতে যেন স্পন্দিত হচ্ছিল মৃধাবাড়ির মানুষের হৃদয়।

‘বৈতরণী’র এই বিজয় তাই শুধু একটি নৌকার বিজয় নয়। এটি মৃধাবাড়ির আনন্দ, কদমবাড়ীর গর্ব, রাজৈরের উচ্ছ্বাস এবং মাদারীপুরের মানুষের ভালোবাসার এক সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। নদীর বুকে বিজয়ী নৌকার ছুটে চলা আর তীরে দাঁড়িয়ে মানুষের উল্লাস—এই দুইয়ের মিলনে সেদিন যেন সৃষ্টি হয়েছিল এক অনির্বচনীয় আবেগের মুহূর্ত।

আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে আমরা ক্রমেই আমাদের শেকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। প্রযুক্তির পর্দা আমাদের বিনোদনের অসংখ্য দুয়ার খুলে দিয়েছে, কিন্তু নিজের নদী, নৌকা, মাঝি, বৈঠা আর লোকজ উৎসবের সঙ্গে আমাদের স্বাভাবিক সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। সেই বাস্তবতায় কুমার নদীর এই নৌকাবাইচ নিছক বিনোদনের আয়োজন নয়—এটি আমাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতির পুনর্জাগরণ।

এ যেন কুমারের বুক থেকে বাংলার মানুষকে আবারও একটি আহ্বান—

“ফিরে এসো তোমার শেকড়ের কাছে।”

একজন প্রবীণ দর্শক হয়তো এই নৌকাবাইচ দেখে ফিরে পেয়েছেন তার যৌবনের দিনগুলো। একজন তরুণ হয়তো প্রথমবার উপলব্ধি করেছেন, তার পূর্বপুরুষের সংস্কৃতি কতটা প্রাণময়। আর একটি শিশু হয়তো নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মনে মনে ঠিক করে ফেলেছে—এই ঐতিহ্যকে সে একদিনও হারিয়ে যেতে দেবে না।

এই কারণেই নৌকাবাইচকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির একটি জীবন্ত ঐতিহ্য। তাই নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখা, নৌপথ সচল রাখা, ঐতিহ্যবাহী নৌকা নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া, মাঝিদের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে নৌকাবাইচের আয়োজন অব্যাহত রাখা জরুরি।

কারণ—

নদী হারালে নৌকা হারাবে।

নৌকা হারালে নৌকাবাইচ হারাবে।

আর নৌকাবাইচ হারালে বাংলার লোকজ জীবনের একটি স্পন্দিত অধ্যায়ও হারিয়ে যাবে।

১৮ সেপ্টেম্বরের সেই বিকেল তাই শুধু একটি নৌকাবাইচের বিকেল ছিল না। কুমারের বুকে সেদিন যেন ফিরে এসেছিল হারিয়ে যেতে বসা বাংলার এক টুকরো শৈশব, এক টুকরো আবেগ, এক টুকরো গর্ব।

‘বৈতরণী’র বিজয় সেই ভালোবাসারই এক উজ্জ্বল স্মারক।

কুমারের ঢেউ বয়ে যাক, বৈঠার ছন্দ ফিরে আসুক বারবার।

নদীর পাড়ে আবারও জমুক মানুষের মেলা।

মাঝির কণ্ঠে উঠুক বিজয়ের হুঙ্কার।

আর বাংলার নদীগুলো সাক্ষী থাকুক—

এই মাটির মানুষ তার শেকড়কে এখনো ভুলে যায়নি।

কারণ নৌকাবাইচ শুধু নৌকার প্রতিযোগিতা নয়—এটি বাংলার মানুষের হৃদয়, নদী ও ঐতিহ্যের এক চিরন্তন মিলনমেলা।